কুমিল্লায় আইফোনের লোভে স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪, ৩ জনের জবানবন্দি

বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি, কুমিল্লা

কুমিল্লার কোটবাড়ীতে বহুল আলোচিত বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। আইফোন ছিনতাই ও পাওনা টাকা কেন্দ্রিক বিরোধের জের ধরে ফুসলিয়ে পাহাড়ি নির্জন এলাকায় নিয়ে অপ্রতিমকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

​এ ঘটনায় মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজন আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিখোঁজ ও নির্জন স্থান থেকে লাশ উদ্ধার

​মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে কোটবাড়ীর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুরে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

​নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান।

আইফোন ও পাওনা টাকার লোভে নৃশংসতা

​ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), অপ্রতিমের বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর কর্মচারী, তার ১৬ বছর বয়সী এক বন্ধু এবং সহযোগী মো. সিয়াম (১৯)।

​পুলিশের তদন্তে জানা যায়, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের। পাশাপাশি অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কিশোর কর্মচারী অপ্রতিমের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল, যা ফেরত চাওয়া নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর অপ্রতিমকে কৌশল করে লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোন কাড়তে গেলে অপ্রতিম বাধা দেয়। এ সময় আসামিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামিদের কাছ থেকে নিহতের আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও জেলহাজতে প্রেরণ

​আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে প্রধান আসামি তুহিন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোর আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

​পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে এবং প্রাপ্তবয়স্ক দুই আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ও মো. সিয়ামকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ও নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও সচেতন এলাকাবাসী।