সুলতান আহম্মেদ, মাদারগঞ্জ ( জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আপন মেয়েকে দীর্ঘ দুই বছর ধরে কুপ্রস্তাব ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মোরশেদ আলম নামে এক পিতাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত মোরশেদ আলম উপজেলার ৭নং সিধুলী ইউনিয়নের চরলোটাবর মাইসা গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
দীর্ঘদিনের কুপ্রস্তাব ও ভয়ভীতি প্রদর্শন
অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে মোরশেদ আলম তার নিজ মেয়েকে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বাবার এমন অনৈতিক প্রস্তাবে মেয়ে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতিও দেখানো হয়।
নিরুপায় হয়ে বাবার হাত থেকে রক্ষা পেতে মেয়েটি তার মাসহ অন্যান্য বিশ্বস্ত আত্মীয়দের বিষয়টি জানায়। ঘটনা শুনে আত্মীয়স্বজনরা মোরশেদকে শাসন ও বকাঝকা করলেও সে তার অপচেষ্টা থেকে নিবৃত হয়নি।
মায়ের রহস্যজনক ভূমিকা ও পুলিশের আশ্রয়
ভুক্তভোগী মেয়ের অভিযোগ, তার মা প্রথমে তার পক্ষে অবস্থান নিলেও পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে বাবার অনৈতিক প্রস্তাবেই তাকে রাজি হতে চাপ ও সুপারিশ করতে থাকেন। পরিবারের সবার কাছ থেকে নিরাশ হয়ে ও কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী মেয়েটি গণমাধ্যমের সামনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে এবং মাদারগঞ্জ মডেল থানায় বিষয়টি অবগত করে।
গ্রেপ্তার ও এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি থানায় জানানোর পর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হলে রবিবার অভিযুক্ত পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পবিত্র সম্পর্কের এমন চরম অবক্ষয় ও ন্যক্কারজনক এই ঘটনায় চরলোটাবর মাইসা গ্রামসহ পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
