আনন্দ মোহন কলেজের চলমান সংকট নিরসনের দাবি শিক্ষার্থীদের

ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে সাত দাবিতে মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনেছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ।

ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের চলমান সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আজ দুপুর ১২টার দিকে মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

​কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াদ সারোয়ার। তিনি বলেন, দুই মাস ধরে অধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

  • প্রশাসনিক অচলাবস্থা: অধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং প্রশংসাপত্র ও ছাড়পত্র উত্তোলনসহ অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
  • বৈষম্য: নবনির্মিত হিন্দু হলটি এখনো চালু না হওয়ায় হিন্দু শিক্ষার্থীরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
  • নিরাপত্তা: সন্ধ্যার পর কলেজ প্রাঙ্গণে মাদকসেবীরা অবস্থান করায় সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

সাত দফা দাবি

​ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন:

  1. ​অবিলম্বে অধ্যক্ষ পদায়ন।
  2. ​পদায়নের আগপর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে জেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ।
  3. ​পদায়ন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা।
  4. ​হিন্দু হল দ্রুত চালু করা।
  5. ​প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ।
  6. ​ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের দমনে যথাযথ ব্যবস্থা।
  7. ​কলেজ ক্যাম্পাসে একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা।

সংকটের পটভূমি

​গত ৩১ জুলাই অধ্যক্ষ আমান উল্লাহকে ওএসডি করার পর ৩ আগস্ট উপাধ্যক্ষ সাকির হোসেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁর অপসারণ দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মুখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেন ‘কলেজের চলমান সংকট উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার দায়িত্ব পালন করব না’ মর্মে সাদা কাগজে লিখে পুলিশের পাহারায় কলেজ ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি আর কলেজে যেতে পারছেন না।

​ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেন বলেন, তিনিও সংকট নিরসন চান, তবে কেন বিনা কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *