১১ দলীয় জোটের গণমিছিল: ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীতে গণভোটের রায় ও ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে এক বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে ২০২৬) বিকেলে বাদ আসর জেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পৌরবাজার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

গণমিছিল ও জনসমাগম

মিছিল চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা’ এবং ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন’সহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও ক্ষোভ

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার। জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থনে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকার উপেক্ষা করছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন:

  • প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করে সরকার সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে।
  • পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
  • সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন না করা সরকারের সদিচ্ছার অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সমাবেশ থেকে নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন:

  • মাওলানা ইউসুফ মাদানী: সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, নোয়াখালী জেলা উত্তর।
  • জহিরুল হক: সভাপতি, লেবার পার্টি, নোয়াখালী জেলা।
  • কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর: সদস্য সচিব, এনসিপি নোয়াখালী জেলা।
  • আব্দুল কাইয়ুম: সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, জেলা দক্ষিণ।
  • বোরহান উদ্দিন: সেক্রেটারি, ইসলামী ছাত্রশিবির, নোয়াখালী শহর।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *