সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ৪০ বছর ধরে বঞ্চিত এক বৃদ্ধা ও তার সন্তানরা

আকরাম হোসেন, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের ভাটখালী গ্রামে মৃত আব্দুস সাত্তার মৃধার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। শরীয়াহ মোতাবেক প্রাপ্য অংশ না পেয়ে মৃত ব্যক্তির তৃতীয় স্ত্রী ও কন্যারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার মৃধা জীবদ্দশায় তিনটি বিয়ে করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর প্রথম ও দ্বিতীয় সংসারের দুই ছেলে মাওলানা সুলাইমান মৃধা ও মাওলানা ইউনুস মৃধা সম্পত্তির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ চার দশক ধরে তারা এই সম্পত্তি ভোগদখল করলেও বোনদের এবং বিশেষ করে তৃতীয় স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেননি।

তৃতীয় স্ত্রীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত করুণ। তিনি মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নে একটি ছোট কুঠুরি ঘরে বসবাস করছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোভাবে জীবনযাপন করলেও বার্ধক্যের এই সময়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি

সাত্তার মৃধার মেজ ঘরের মেয়ে সালেহা বেগম, হাজেরা বেগম ও আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ভাই ইউনুস মৃধা কিছু জমি দিলেও তা শরীয়াহ অনুযায়ী প্রাপ্য অংশের চেয়ে অনেক কম।” অন্যদিকে, তৃতীয় পক্ষের কন্যা তানজিরা বেগম বলেন, “ইউনুস মৃধা কাগজে-কলমে আমাকে আপন বোন দেখিয়ে আমাদের সম্পত্তি ভোগদখল করছেন। আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই।”

অভিযুক্তদের বক্তব্য

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাওলানা সুলাইমান মৃধা বলেন, “সবকিছু আমার ভাই ইউনুস মৃধা দেখাশোনা করেন, আমি জমিজমা কম বুঝি।” তবে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মাওলানা ইউনুস মৃধা বলেন, “যা করার আমার বাবা করে গেছেন। তারা সম্পত্তি দাবি করলে আইনের মাধ্যমে বুঝে নিবে, এতে আমার আপত্তি নেই।” তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসা করার প্রস্তাবে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই পারিবারিক বিরোধের ফলে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা ও তার কন্যারা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তারা শরীয়াহ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *