শ্রমিক সংকটে অদম্য লড়াই: ভেলায় চড়ে ডুবন্ত ধান কেটে আনল গোটা পরিবার
মো: হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি ( নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুড়িতে তীব্র শ্রমিক সংকটের মুখে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে একটি কৃষক পরিবার। ২রা মে শনিবার সকালে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জিয়াখড়া গ্রামের শচীন্দ্র দাসের পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশু শিক্ষার্থীরা মিলে কলাগাছের ভেলায় চড়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তুলেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
জিয়াখড়া রোয়াইল হাওরে শচীন্দ্র দাসের মাত্র ৮০ শতাংশ (৮ কাঠা) জমিতে বোরো আবাদ ছিল। অতিবৃষ্টিতে ধান তলিয়ে যেতে শুরু করলে তিনি হন্যে হয়ে শ্রমিক খুঁজলেও কাউকে পাননি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেই মাঠে নামেন। এই অভিযানে শচীন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগ দেন তাঁর স্ত্রী সীমা রাণী দাস, ছোট ভাই বজেন্দ্র দাস, ভাইয়ের স্ত্রী দীপালী রাণী দাস এবং দুই শিক্ষার্থী সন্তান— নেত্রকোনা আবু আব্বাস কলেজের ছাত্র প্রয়ন্ত দাস ও প্রকাশনাথ পাবলিক স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র জয়ন্ত দাস।
শচীন্দ্র দাস বলেন, “আমরা গরীব মানুষ, মজুরি বেশি দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছিলাম না। তাই পরিবারের সবাই মিলে কলাগাছের ভেলা বানিয়ে ডুবন্ত ধান কেটে আনলাম। এই ধান দিয়ে অন্তত দুই-তিন মাস খাওয়া যাবে।”
কৃষি দপ্তরের তথ্য ও প্রতিক্রিয়া
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, খালিয়াজুড়িতে মোট ২০,২৩২ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তবে ৪৫৮৫ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শচীন্দ্র দাসের পরিবারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “তাদের মতো নারী ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে দুর্যোগ মোকাবিলা অনেক সহজ হবে।”
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের অভিনন্দন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম এই সাহসী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থী সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সকলে মিলে কাজ করলে যেকোনো সমস্যা সমাধান সম্ভব।”
এছাড়াও উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন, জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু যৌথ বিবৃতিতে এই পরিবারটির প্রশংসা করেন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দুর্যোগকালীন সময়ে নিজ নিজ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
