শেরপুরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শেরপুর প্রতিনিধি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য (ডিসইনফরমেশন) ও অপপ্রচারের নেতিবাচক বিস্তার রোধে শেরপুরে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক, সুধীসমাজ এবং স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

উক্ত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম:

  • সাইফুল ইসলাম কমল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)।
  • শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)।
  • মো. রেজুয়ান, জেলা শিক্ষা অফিসার।
  • কাকন রেজা, সভাপতি, শেরপুর প্রেসক্লাব।
  • মাসুদ হাসান বাদল, সাধারণ সম্পাদক, শেরপুর প্রেসক্লাব।

এছাড়াও জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ সভায় অংশ নেন।

তথ্য প্রচারের আগে যাচাইয়ের তাগিদ

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বলেন—

“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে যেকোনো একটি ভুল বা যাচাইহীন তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনমনে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যেকোনো তথ্য বা সংবাদ প্রচারের আগে তার সত্যতা নিখুঁতভাবে যাচাই করা, গুজব ও অপপ্রচার থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ইতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসন ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ

সভায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বোত্তম ব্যবহার, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক বিষয়বস্তু (Content) তৈরি, স্পর্শকাতর তথ্য যাচাই ছাড়া শেয়ার না করা, ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

বিশেষ করে শেরপুর অঞ্চলের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব’ নিরসন ও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সঠিক ও দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারে স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া সাইবার বুলিং প্রতিরোধ, অপতথ্য, গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার নিরোধের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পরিবার, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

সভার শেষভাগে অংশগ্রহণকারী সকলেই একটি সচেতন, ইতিবাচক, নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যম এবং সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *