শিশুদের সাবলীল পাঠক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক পর্যায়ে যদি আমরা একটি শিশুকে, বিশেষ করে পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে সাবলীল পাঠক হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে সে বই পড়ার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাবে। এই আনন্দ থেকেই তার মধ্যে বইয়ের প্রতি আসক্তি তৈরি হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বইমেলা ২০২৫ উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, বিভাগীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজনে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে ময়মনসিংহ টাউন হলে অনুষ্ঠিত ‘মাদকাশক্তি ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহার রোধে বইমেলার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বইয়ের প্রতি আসক্তিই শিশুকে একটি ভিন্নতর, সচেতন ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে, যে কারণে সহজে অন্য কোনো নেশা বা নেতিবাচক আসক্তির দিকে ঝুঁকবে না।
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তি সাধারণত তরুণ বয়সেই শুরু হয়। তরুণরা সবসময় কৌতূহলী হয় এবং তাদের নতুন কিছু জানার আগ্রহ থাকে। আমরা যদি চাই, তাহলে এই তরুণদেরকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারি। তাদের ভালো কাজে যুক্ত করতে পারলে নেতিবাচক পথে যাওয়ার সুযোগ আর থাকবে না।
প্রধান অতিথি বলেন, তরুণদের নেতিবাচক আসক্তি দূর করার জন্য বইয়ের প্রতি আসক্তি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বই মানুষকে আনন্দ দিতে পারে। যে শিশু ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার আনন্দ পায়, সে সহজে কোনো নেতিবাচক নেশায় জড়িয়ে পড়ে না। কারণ বই তাকে মানসিক তৃপ্তি ও আনন্দ দেয় এবং এই আনন্দের মধ্য দিয়েই সে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।

তিনি উল্লেখ করেন, বইয়ের প্রতি আসক্তি গড়ে তোলার জন্য শৈশবই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। শিশুদের মধ্যে বই পড়ার আনন্দ ও আগ্রহ সৃষ্টি করতেই আমরা বইমেলার মতো উৎসবের উদ্যোগ গ্রহণ করছি।
বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ ফারাহ শাম্মী এনডিসি-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আবু বকর সিদ্দীক, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার জন কেনেডি জাম্বিল ও সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রশিদ আহমেদ তালুকদার। ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
