পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন: নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। তাঁর শেষ বিদায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

জানাজা ও দাফনের সময়সূচি

প্রেস সচিব জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আজ বুধবার বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দুপুর ২টায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে দুপুর সাড়ে ৩টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সাধারণ জনগণের জন্য নির্দেশনা

সচিবালয়ের বৈঠকে জানানো হয়, জানাজা ও দাফন ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই, তবুও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ডিএমপি, এপিবিএন এবং অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকায় সেনাবাহিনীও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। শফিকুল আলম জানান, জানাজায় অংশগ্রহণকারী সাধারণ নাগরিকরা কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। তবে দাফন কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “খালেদা জিয়া ছিলেন এক আপসহীন নেত্রী। বাংলাদেশে গণতন্ত্র যখনই বিপন্ন হয়েছে, তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা তা ফিরে পেয়েছি। তাঁর দীর্ঘ ৪৫ বছরের পাবলিক সার্ভিস এবং দেশের জন্য ত্যাগ অতুলনীয়।”

সংক্ষিপ্ত জীবনী

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালে ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পরিণয়ে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকের সাক্ষী হন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি দুই সন্তানসহ বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। ১৯৮১ সালে স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হারানোর পর তিনি রাজনীতির হাল ধরেন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *