নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা: ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার, উত্তাল ক্যাম্পাস
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের শারীরিক হেনস্তা, প্রাণনাশের হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং বর্তমান সভাপতির পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
- স্থায়ী বহিষ্কার: সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন।
- পদ স্থগিত: বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
- শোকজ: সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
জানা যায়, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন দাপ্তরিক কাজে ক্যাম্পাসে এলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষক পরিষদের নেতবৃন্দের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ছাত্রদল সভাপতি সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে প্রবেশ করে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার পরিবেশনে বাধা দেয়। এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জানান, তাঁদের উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে একটি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে; পরবর্তী কর্মসূচি জরুরি সভা শেষে জানানো হবে।
অন্যদিকে, নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে এমন সহিংসতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
