খালিয়াজুড়িতে স্বামীকে ধান কাটায় সহযোগিতা করতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রতিকী ছবি।

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুড়িতে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান রক্ষা করতে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু সেই ফসল আর ঘরে তোলা হলো না তাঁর। ২৯ এপ্রিল বুধবার বিকেলে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের খোকন বেগম (৩৫) ধান কাটার সময় অতিবৃষ্টি ও ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারান।

ঘটনার বিবরণ

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কল্যাণপুর গ্রামের মোঃ জামাল মিয়ার ১২০ শতাংশ (১২ কাানি) জমির বোরো ধান অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। শ্রমিক সংকটের কারণে গত দুই দিন ধরে জামাল মিয়া তাঁর দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে ধান কাটছিলেন। বুধবার বিকেলে খোকন বেগমও স্বামী ও সন্তানদের সহযোগিতা করতে হাওরে নামেন।

তীব্র বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের ঠান্ডায় তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে জমির পাশেই ঢলে পড়েন। তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

শোক ও সমবেদনা

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান শামীম মোড়ল গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। জামাল মিয়া ফসলের পাশাপাশি তাঁর জীবনসঙ্গীকেও হারালেন”।

উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন, জামাতের আমীর মোঃ ইসমাইল হোসেন, বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

প্রশাসনের আশ্বাস

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে এবং বিধি মোতাবেক সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “এই মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা করা হবে”।

Leave a Comment