কলমাকান্দায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি: তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান, বন্যার শঙ্কায় কৃষকরা

মো. ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা; পাকা ও আধা-পাকা বোরো ধান রক্ষা করতে তড়িঘড়ি করে ফসল কাটায় নেমেছেন তাঁরা।

নদ-নদীর বর্তমান চিত্র

উপজেলার প্রধান উব্দাখালী নদীর পাশাপাশি মহাদেও, গনেশ্বরী ও মঙ্গেলশ্বরীসহ ছোট-বড় সব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উব্দাখালী নদীর ডাকবাংলো পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১.০৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মেদী ও তেলেঙ্গাসহ কয়েকটি বিলে পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

হাওরের হাহাকার ও শ্রমিক সংকট

কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, হাওরের প্রায় ৫০ শতাংশ বোরো ফসল ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো—সবকিছুতেই ভোগান্তি বেড়েছে। সোনাডুবি হাওরপারের মন্তলা গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া বলেন, “বৃষ্টি আর বজ্রপাতে হাওরে যেতে ভয় লাগে, তবুও ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছি।”

এদিকে, হাওরে পানি জমে থাকায় আধুনিক কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না এবং জ্বালানি সংকটে অনেক যন্ত্র অকেজো হয়ে আছে। এর সাথে যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।

কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের বক্তব্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলায় এ বছর ২১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি হারভেস্টার ব্যবহারে সমন্বয় করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, “হাওরের ধান কাটাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। দ্রুত ধান কাটা শেষ করতে প্রচারণার পাশাপাশি দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *