ধনকুবেরদের ৪ কোটি ডলার ব্যয়েও হার মানলেন কুমো, মেয়র নির্বাচিত জোহরান মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ধনকুবের বিল অ্যাকম্যান, নিউইয়র্ক শহরের তিনবারের সাবেক মেয়র মাইকেল আর. ব্লুমবার্গসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সম্মিলিতভাবে ৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেও অ্যান্ড্রু কুমোকে জেতাতে পারেনি। বরং তাঁদের বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও বিজয়ী হয়েছেন জোহরান মামদানি।
অর্থের স্রোত এবং ঘৃণামূলক প্রচারণা
মামদানির বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে কুমোর তহবিলের জোগানদাতারা বিশাল বিশাল ডিজিটাল বিলবোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এসব বিজ্ঞাপনের মূল বার্তা ছিল—মামদানি একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী, ফিলিস্তিনের সমর্থক এবং তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ।
- অর্থের ব্যবধান: কুমোর পক্ষের রাজনৈতিক তহবিল কমিটিগুলো (প্যাক) ৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল। অন্যদিকে, মামদানির পক্ষের প্যাকগুলো সংগ্রহ করেছিল মাত্র ১ কোটি ডলার।
- ‘খোলামেলা ঘৃণা’: প্রচারের শেষ দিকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলোর ভাষাকে ‘খোলামেলা ঘৃণা’ অভিহিত করেছিলেন মামদানি। কোনো কোনো বিজ্ঞাপনের ভাষা ইসলাম বিষয়ে ঘৃণা (ইসলামোফোবিয়া) ছড়াচ্ছিল। কুমোর পক্ষে তহবিল সংগ্রহকারী ‘ফর আওয়ার সিটি’ প্ল্যাটফর্মের একটি বিজ্ঞাপনে বিধ্বস্ত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে হাস্যোজ্জ্বল মামদানির ছবিও ব্যবহার করা হয়েছিল।
কুমোর পক্ষে সবচেয়ে বেশি অর্থ (২ কোটি ৯০ লাখের বেশি ডলার) ব্যয় করেছে ‘ফিক্স দ্য সিটি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও তারা সফলতার মুখ দেখেনি।
গণতন্ত্র বনাম ধনী শ্রেণি
নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে কুমোর দিক থেকে আসা আক্রমণগুলোর জুতসই জবাব দিয়েছিলেন মামদানি। তিনি ভোটারদের বারবার বলেছেন, এবারের মেয়র নির্বাচন ‘অলিগার্ক বা ধনী শ্রেণি বনাম গণতন্ত্রের’ মধ্যে প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি তিনি ধনীদের ওপর কর বসানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক জনসংখ্যার শহরের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ধনীরা নিউইয়র্কবাসীর উন্নত জীবনযাত্রার পথে বাধা। ক্ষমতায় এসে তিনি নিউইয়র্কবাসীর সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।
