মিজানুর রহমান মুবিন, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি

উন্নয়ন হতে হবে সমতার ভিত্তিতে এবং এর সুফল সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, “কাউকে পেছনে ফেলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ঝালকাঠির সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে হবে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি, যাতে বর্তমানের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এর সুফল ভোগ করতে পারে।”
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঝালকাঠি জেলার উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমন্বিত পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার তাঁর বক্তব্যে ঝালকাঠির স্থানীয় মানুষের প্রাত্যহিক প্রয়োজন, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও ভৌত অবকাঠামোসহ প্রতিটি খাতের উন্নয়নকে একক ও সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এগিয়ে নিতে হবে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে কাজের সমন্বয় আরও জোরদার করা গেলে পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
পর্যটন সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
ঝালকাঠির অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন—
”ঝালকাঠির সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে পর্যটন খাত ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এতে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার সামগ্রিক অর্থনীতি আরও বেগবান হবে।”
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও মুক্ত আলোচনা
ঝালকাঠি জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
- মো. মমিন উদ্দিন — জেলা প্রশাসক, ঝালকাঠি।
- মেরিন সুলতানা — পুলিশ সুপার, ঝালকাঠি।
- ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর — সিভিল সার্জন, ঝালকাঠি।
- জুলিয়া সুকায়না — প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ।
- অ্যাডভোকেট আককাস সিকদার — সভাপতি, ঝালকাঠি প্রেসক্লাব।
- অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন — সভাপতি, রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠি।
সভায় স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংবাদকর্মীরা অংশ নিয়ে ঝালকাঠির স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
