জুলাই সনদ প্রশ্নে বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি, সমঝোতার নতুন উদ্যোগ ৯ দলের
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০: ৪৭

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কার্যত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। তাদের মিত্র দলগুলোর অবস্থানও সংস্কার প্রশ্নে প্রায় একই রকম। এ কারণে যে রাজনৈতিক সংকট সামনে আসছে, তার একটি মাঝামাঝি সমাধানের পথ খুঁজতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চসহ নয়টি দল।
নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার গণতন্ত্র মঞ্চের ছয়টি দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও গণ অধিকার পরিষদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। রাজধানীর হাতিরপুলের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে।
বৈঠকটি আয়োজনে যুক্ত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি
ফাইল ছবি:
, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন,
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য তৈরি হয়েছে। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে আসার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান আসে।
বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, তাঁরা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা চান এবং চান যে এই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন হোক।
এই বৈঠক থেকে সংকট সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খানকে। সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন ও এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হককে।
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হওয়া অনৈক্য নিরসনে বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং ঐকমত্য তৈরির বিষয়ে সবাই আগ্রহী। শিগগিরই বিএনপি এবং জামায়াতের সঙ্গেও তাঁরা আলোচনায় বসতে চান। জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, পর্যায়ক্রমে অন্য দলগুলোর সঙ্গেও তাঁরা বসবেন, যার মধ্যে সিপিবি ও বাসদ অন্যতম।
নির্বাচনী জোট ও একীভূত হওয়ার আলোচনা
সংস্কার প্রশ্নে যেসব দলের অবস্থান কাছাকাছি, তাদের মধ্যে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ঘিরে আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা সমীকরণ সামনে আসছে।
এনসিপির অনেক নেতাই একসময় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের (গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি) অনুসারী ছিলেন। এখন গণ অধিকার পরিষদ এনসিপিতে একীভূত হতে পারে—এমন আলোচনাও সামনে এসেছে। এনসিপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। তবে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এ–সংক্রান্ত আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান
ফাইল ছবি
আগামী নির্বাচনে কোন কোন দলের সঙ্গে এনসিপির জোট বা সমঝোতা হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা আছে। এনসিপির নেতারা মনে করেন, বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে সংস্কার প্রশ্নে যেসব দলের অবস্থান কাছাকাছি, তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসব দলের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নাম আলোচনায় আছে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন
ফাইল ছবি:
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও এনসিপির নেতারা বলছেন, সরাসরি জোটে যাওয়ার প্রশ্নে তাঁদের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনেকের দ্বিধা আছে। তবে রাজনীতির মাঠে জামায়াতের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক রাখতে এনসিপির নেতাদের অনেকেই আগ্রহী।
