খালিয়াজুড়িতে অবৈধ কারেন্ট জালে মাছ ধরায় সাবেক মেম্বারের জেল ও সহযোগীর জরিমানা
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনা জেলার হাওরবেষ্টিত খালিয়াজুড়ি উপজেলায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার অপরাধে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে কারাদণ্ড ও তাঁর সহযোগীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের উদয়পুর বাজারের সামনের হাওরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মেম্বার মোঃ নওয়াব আলী উপজেলার জাহেরপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। এছাড়া তাঁর সহযোগী একই গ্রামের মোঃ আয়নাল হককে নগদ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
হাওরে প্রশাসনের আকস্মিক অভিযান
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খালিয়াজুড়ি উপজেলার উদয়পুর বাজারের সামনের হাওরে একটি চক্র নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করছে—এমন গোপন সংবাদ পায় প্রশাসন। তথ্যের সত্যতা পেয়ে খালিয়াজুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান তৎক্ষণাৎ খালিয়াজুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাসির উদ্দীন ও সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে হাতেনাতে অভিযান পরিচালনা করেন।
অপরাধ স্বীকার ও তাৎক্ষণিক সাজা
অভিযানকালে নিষিদ্ধ জালসহ মাছ ধরা অবস্থায় সাবেক মেম্বার নওয়াব আলী ও তাঁর সহযোগী আয়নাল হককে আটক করা হয়। তাঁরা অবৈধভাবে মৎস্য শিকারের কথা স্বীকার করায় ঘটনাস্থলেই মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করেন ইউএনও অলিদুজ্জামান।
আদালতে আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করায়:
- সাবেক মেম্বার নওয়াব আলীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
- সহযোগী আয়নাল হককে ১০ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড করা হয়।
চলবে নিয়মিত অভিযান
খালিয়াজুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাসির উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান—
”নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে মাছ ধরার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক মেম্বার মোঃ নওয়াব আলীকে বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আগামীকাল ১২ জুলাই (রোববার) সকালে যথাযথ পুলিশ পাহারায় তাকে নেত্রকোনা জেলা হাজতে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের অবৈধ মৎস্য শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
