কুড়িগ্রামে আঙুর চাষে সফল ব্যাংক কর্মকর্তা: তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান, স্বপ্ন বিদেশে রপ্তানির

মোস্তাফিজুর রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় আঙুর চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছেন রুহুল আমিন নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা। দেশের বাজারে বিষমুক্ত আঙুরের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন এই সফল উদ্যোক্তা।

বাগানের বৈচিত্র্য ও ফলন

ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারি গ্রামে দুই বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই আঙুর বাগান। বাগানে বাইকুনুর, গ্রিনলং, গোল্ডেনপ্লেস ও জুপিটাসসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আঙুর রয়েছে। এর মধ্যে ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙুরের ফলন সবচেয়ে বেশি হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করায় থোকায় থোকায় আঙুরে ভরে উঠেছে পুরো বাগান।

আয় ও কর্মসংস্থান

উদ্যোক্তা রুহুল আমিন জানান, গত চার বছর আগে তিনি এই বাগান শুরু করেন। বর্তমানে এক বিঘা জমির গাছ থেকে নিয়মিত ফলন পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “প্রতি বছর এই বাগান থেকে আমার ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে। আঙুরের পাশাপাশি আমি চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছি।”

তার এই উদ্যোগে স্থানীয় ৫-৭ জন শ্রমিকের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, মাসিক ভিত্তিতে এখানে কাজ করে তাদের পরিবার এখন স্বচ্ছলভাবে চলছে।

দর্শনার্থীদের ভিড়

বাগানের সাফল্য দেখে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ চারা সংগ্রহ ও বাগান দেখতে আসছেন। ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, গত বছর ইউটিউবে দেখে এখান থেকে চারা নিয়ে তিনি বাড়িতে রোপণ করেছিলেন, যাতে এ বছর প্রায় ১৫-২০ কেজি আঙুর ধরেছে। এ বছর তিনি আরও চারা কিনতে এসেছেন।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, রুহুল আমিনের ৩০ শতাংশ (এক বিঘা প্রায়) জমিতে প্রায় ৪০০টি উন্নত জাতের আঙুর গাছ রয়েছে। আশানুরূপ ফলন হওয়ায় কৃষি বিভাগ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। আমরা তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উত্তরের জনপদে আঙুর চাষের এমন প্রসার ঘটলে কৃষিতে বৈচিত্র্য আসার পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *