এলপিজির নতুন দাম ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অসাধু মজুতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

দেশে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা চরম সরবরাহ ঘাটতির মুখে অবশেষে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর আগেই বাজার তদারকির অভাবে সাধারণ গ্রাহকদের বাধ্য হয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছিল।

​আমদানিতে ঘাটতি নেই, তবুও বাজারে সংকট

​এলপিজি খাতের আমদানিকারকদের সংগঠন ‘লোয়াব’ (LOAB)-এর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। অর্থাৎ আমদানির চিত্রে কোনো প্রকার ঘাটতি নেই। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি।

​উল্লেখ্য, দেশে প্রায় এক কোটি এলপিজি গ্রাহকের ৮০ শতাংশই রান্নার কাজে এটি ব্যবহার করেন, এবং আমদানির ৯৯ শতাংশই আসে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। বাজার সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন, সরকারের সময়মতো বাজার তদারকির অভাবেই সাধারণ গ্রাহকদের পকেট কাটা যাচ্ছে।

​বিইআরসির কড়া পদক্ষেপ ও ডেটা যাচাই

​পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং অসাধু মজুতদারদের চিহ্নিত করতে দেশের ১২টি এলপিজি আমদানিকারক কোম্পানিকে চিঠি পাঠিয়েছে বিইআরসি। পুরো মাসের দৈনিক আমদানি ও সরবরাহ তথ্যের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি কোম্পানি তাঁদের তথ্য জমা দিয়েছে, যা বিইআরসি কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করছে। নিয়মিত বাজার নজরদারি অব্যাহত থাকলে বাজারে দ্রুতই এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।