মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে ফখরুল ইসলামের চ্যালেঞ্জ: “১২ টাকার লেনদেন প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ও ব্যবসা ছেড়ে দেব”
মোহাম্মদ উল্যা
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে (কোম্পানীগঞ্জ -কবিরহাট) বিএনপি’র চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রার্থী, নোয়াখালীর বিএনপির নেতা ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেট্রো হোমসের চেয়ারম্যান, আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে কঠোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই চ্যালেঞ্জ দেন।
চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবাদ
ফখরুল ইসলাম বলেছেন:
“এস আলম গ্রুপের সাথে ১২শ কোটি নয়, ১২ কোটিও নয় শুধু ১২ টাকার লেনদেন আছে বা ব্যবসা আছে প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ও ব্যবসা দুইটাই ছেড়ে দেব।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দৈনিক পত্রিকা ‘নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি কান্ডারি এস আলমের ক্রাইম পার্টনার জামায়াতের ফখরুল’ শিরোনামে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, তিনি প্রথমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, এবং প্রয়োজন হলে তিনি এ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হবেন।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও ব্যক্তিগত অবস্থান
ফখরুল ইসলাম বলেন, তাঁর পতিপক্ষ এস আলম গ্রুপের অর্থ পাচার বা মির্জা কাদেরের সাম্রাজ্যের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া তিনি কোনো অর্থ পাচারের সাথেও যুক্ত নন।
- দলের প্রতি আনুগত্য: তিনি বলেন, তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করেছেন এবং একাধিক মামলার প্রধান আসামি হয়েছেন। তবুও বিএনপির রাজনীতির হাল ছাড়েননি। আওয়ামী সরকারের দুঃশাসনের সময়ও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। এ কারণেই তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রিমহল ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
- জামায়াত সংশ্লিষ্টতা: তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সদস্য, সাথী, রোকন কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত হওয়ার তথ্য প্রমাণ দিতে পারবে না, তবে আমি বিএনপি জন্ম হওয়ার আগে আমি ছাত্র শিবির করতাম।”
- অন্য দলের নেতারা: তিনি বিএনপি’র অনেক নেতার কথা বলেন, যারা অন্য দল থেকে এসে বিএনপি নীতিনির্ধারক ফোরামে পর্যন্ত গিয়েছেন। শুধু তাঁকে নিয়েই জামায়াত ইসলাম দল থেকে এসেছেন বলে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, যা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।
ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, “যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি ফার্স্টের চেয়ারম্যান পদ ও ব্যবসা, এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব দুটোই ছাড়তে প্রস্তুত।”
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান
তিনি জনমতের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিষয়টি তীব্রভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য এগিয়ে আসুন।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আফতাব আহমদ বাচ্ছু, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সেলিম, বসুরহাট পৌরসভার বিএনপি আহ্বায়ক আব্দুল মতিন লিটনসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
