নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সামুদ্রিক ও মিঠাপানির মাছ চাষে উদ্ভূত সমস্যা ও মোকাবিলা নিয়ে একটি আঞ্চলিক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সার্ক কৃষি কেন্দ্রের (SAC) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু অভিযোজন কৌশল এবং টেকসই মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মিঠাপানি ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের ঝুঁকি
ওয়েবিনারে ভারতের কেন্দ্রীয় মিঠাপানি মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. বি কে দাস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীর প্রবাহ ও মাছের বাসস্থানের ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে মিঠাপানির মাছ চাষে টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার ওয়ায়াম্বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সেভ্যান্ডি জয়াকোডি সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মাছ চাষে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং তীব্র আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “উষ্ণতা বৃদ্ধি, বন্যা ও খরা দক্ষিণ এশিয়ার লাখ লাখ মানুষের জীবিকা ও মৎস্য উৎপাদনকে বিপন্ন করছে। জলবায়ু-সহনশীল মাছ চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।”
ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ (মৎস্য) ড. মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলপ্রবাহের পরিবর্তনকে বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
আঞ্চলিক সমন্বয়ের গুরুত্ব
সমাপনী বক্তব্যে কাঠমান্ডুর সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মৎস্য খাতের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। ওয়েবিনারের শেষাংশে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জলবায়ু মোকাবিলায় আঞ্চলিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
