ময়মনসিংহে সাথী আক্তার হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড; ১ লাখ টাকা জরিমানা
স্টাফ রিপোর্টার ,ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে বহুল আলোচিত সাথী আক্তার হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হৃদয় নামের এক যুবককে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আনোয়ার আজিজ টুটুল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় এ সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তুচ্ছ ঘটনা থেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ মার্চ একটি মোবাইল ফোনের মিসড কলকে কেন্দ্র করে নিহত সাথী আক্তারের বড় বোনের সঙ্গে আসামি হৃদয়ের তর্ক-বিতর্ক হয়। এর জের ধরে ওই দিনই হৃদয় ও তার সহযোগীরা নগরীর আকুয়া জুবলী কোয়ার্টার এলাকার ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে পরিবারটিকে হুমকি-ধমকি দেয় ও হাতাহাতি করে।
এর দুই দিন পর, ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে হৃদয় ও তার সঙ্গীরা পুনরায় সাথী আক্তারের বাসায় চড়াও হয়। সাথী ঘরের দরজা খোলার সাথে সাথেই হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে ঘটনাস্থলেই না ফেরার দেশে চলে যান সাথী।
মামলার বিচার ও আদালতের নির্দেশ
এ নৃশংস ঘটনার পরদিন ২৪ মার্চ নিহতের ছোট বোন মোছা. শিউলী বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় হৃদয়কে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে বিচারকার্য শুরু হয়।
বিজ্ঞ বিচারক রায়ে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া অনাদায়ী ১ লাখ টাকা জরিমানা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় পূর্বক নিহতের পরিবারকে হস্তান্তরের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
