রেজাউল করিম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ নগরীর খাগডহর ঘুণ্টি মাঠপাড় এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে আমান উল্লাহ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রামদা, লোহার রড ও শাবল দিয়ে চালানো এ হামলায় তাঁর হাত ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগে হাড় ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সশস্ত্র হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ২টার দিকে খাগডহর ঘুণ্টি মাঠপাড় এলাকায় আমান উল্লাহর পথরোধ করে আসামিরা। পূর্ববিরোধের জেরে প্রথমে গালিগালাজ করা হয়; প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে তাঁকে ঘিরে ধরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
এজাহারে বাদী ও আমান উল্লাহর স্ত্রী মোছাঃ মজিনা খাতুন অভিযোগ করেন, আসামি জজু মিয়া ধারালো দা দিয়ে আমান উল্লাহর মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর বাম হাতে গুরুতর কাটা জখম হয়। এরপর দেলোয়ার হোসেন লোহার রড এবং রিপন নামের অপর এক আসামি শাবল দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তাঁর ডান পায়ের হাড় ভেঙে দেয়।
অন্যান্য অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। হামলার একপর্যায়ে আসামি রিপন জখমী আমান উল্লাহর কাছে থাকা আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি ও আইনি পদক্ষেপ
আমান উল্লাহর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে কোতোয়ালী মডেল থানায় এজাহারটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলা (মামলা নম্বর: ৮৮/২০২৬) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এজাহারে বাদী দাবি করেছেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন এবং তদন্তে তারা হামলার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন।