ফরিদপুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়া; উপহার বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ

রাশিদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

মানবিক সহায়তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে ফরিদপুরের ‘হাই কেয়ার স্কুলে’ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়া’। আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে শিশুদের মাঝে বিভিন্ন উপহার ও খেলনা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

​কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

​আনন্দঘন পরিবেশে উপহার বিতরণ

​প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসা রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়া এবার ফরিদপুরের হাই কেয়ার স্কুলের শিশুদের মানসিক বিনোদন ও বিকাশের তাগিদে এ উদ্যোগ নেয়। উপহার হিসেবে নতুন খেলনা পেয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

​আয়োজকরা জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এসব শিশুর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পেছনে ভালোবাসা ও উদ্দীপনামূলক পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি।

​‘শিশুরা করুণার নয়, ভালোবাসার পাত্র’

​অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়ার প্রেসিডেন্ট সাকেরা খান সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ওপর জোর দেন।

​তিনি বলেন—

​”বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের পাশে দাঁড়ানো কোনো দয়া বা করুণা নয়, বরং এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিবন্ধী শিশুরা করুণার নয়, ভালোবাসার পাত্র। সমাজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের ভালোবাসলে এবং সুযোগ দিলে তারাও নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে।”

​তিনি আরও জানান, শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশে এই ধরনের সহায়তামূলক মানবিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে তাঁদের সংগঠন।

​সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে বৃক্ষরোপণ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

​মানবিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।

​সংগঠনটির এই উদ্যোগের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হাই কেয়ার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাশিদা আখতারী খানম। তিনি বলেন—

​”আপনাদের ভালোবাসা ও সহানুভূতিই আমাদের শিশুদের এগিয়ে যাওয়ার মূল প্রেরণা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এভাবেই এগিয়ে আসতে হবে।”

​অনুষ্ঠানে স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।