ফুলবাড়ীতে সড়ক সংস্কারের নামে দীর্ঘমেয়াদী ভোগান্তি, মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কাজ বন্ধ
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নে সড়ক সংস্কারের নামে চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার নাওডাঙ্গা পুলের পার হতে বড়ভিটা বাজার পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪ কিলোমিটার পিচঢালা সড়কটির কার্পেটিং তুলে খোয়া বিছিয়ে রাখার পর দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে ধুলোবালি আর খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এলাকার হাজারো মানুষ।
মেয়াদ পার হলেও কাজ শেষ হয়নি
উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী-কাঠালবাড়ী আরএসডি সড়কের নাওডাঙ্গা পোলের পার হতে বড়ভিটা বাজার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কার কাজের কার্যাদেশ পায় কুড়িগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এফ এইচ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৬ লক্ষ ১৩ হাজার ৪১৯ টাকা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কাজ শুরুর আদেশ দেওয়া হয় এবং কাজ সমাপ্তির শেষ সময়সীমা নির্ধারিত ছিল ২৪ মে ২০২৬। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তারা কাজ শেষ করতে পারেনি। উল্টো দীর্ঘদিন ধরে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে উধাও রয়েছে তারা।
ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক, বিকল হচ্ছে যানবাহন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুরো সড়কে বড় বড় খোয়া (ইটের টুকরো) বিছিয়ে ফেলে রাখায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেলের টায়ার ফেটে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিন বিকল হচ্ছে। প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা মাথায় নিয়ে পথচারী ও চালকদের এই সড়কটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সামনে পুরোদমে বর্ষা মৌসুম শুরু হতে থাকায় এই গ্রামীণ অঞ্চলের প্রধান সড়কটির বেহাল দশা স্থানীয়দের মনে আরও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

কর্তৃপক্ষ ও সাব-কন্ট্রাক্টরের বক্তব্য
এই রাস্তা সংস্কারের কাজটি মূল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্ট (উপ-চুক্তি) নিয়ে পরিচালনা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শফিক। এ বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘দৈনিক জাহান’-কে বলেন,
“কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল। তবে খুব দ্রুতই আবার লোকবল লাগিয়ে সড়ক সংস্কারের বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করা হবে।”
অন্যদিকে, তীব্র জনঅসন্তোষের মুখে বিষয়টি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন:
“রাস্তাটির বর্তমান অবস্থার কারণে জনগণের সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। তবে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছি। আমি নিজে তদারকি করছি এবং আশা করছি আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই রাস্তাটির সম্পূর্ণ সংস্কার কাজ শেষ করে চলাচলের উপযোগী করা হবে।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও পথচারীরা আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পিচঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
