দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে টাইফয়েডের প্রথম টিকাদান ক্যাম্পেইন
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫’ উপলক্ষে এই সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। ৯ অক্টোবরছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে।
দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে টাইফয়েড রোগের বিরুদ্ধে গণ-টিকাদান কার্যক্রম। আগামী রোববার, ১২ অক্টোবর থেকে এই মেগা ক্যাম্পেইন শুরু হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রায় ৫ কোটি শিশু-কিশোর-কিশোরীকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই টিকা প্রদান করা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জন্মসনদ নেই এমন শিশুরাও এই টিকা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫’ উপলক্ষে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ।
ক্যাম্পেইনের সময়কাল ও টিকার উৎস
- শুরুর তারিখ: ১২ অক্টোবর (রোববার)।
- চলবে: ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
- লক্ষ্যমাত্রা: ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশু-কিশোরকে টিকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু ইতিমধ্যে টিকার জন্য নিবন্ধন করেছে।
- টিকার সরবরাহ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এই টিকাটি তৈরি করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ এটি পেয়েছে টিকাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মঞ্চ গ্যাভির মাধ্যমে।
কেন এই টিকা জরুরি?
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, টিকাটি নিরাপদ এবং নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে ইতোমধ্যে এটি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার উদাহরণ নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, টাইফয়েড রোগের চিকিৎসায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এই টিকাদানের ফলে টাইফয়েড কমে এলে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারও কমে আসবে, যা ওষুধ প্রতিরোধী (Antibiotic-resistant) ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।
উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী:
- ২০২১ সালে ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৮ হাজার জন মারা যায়।
- মারা যাওয়াদের ৬৮ শতাংশই ছিল শিশু।
- দেশে ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েড জ্বরের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে।
টিকা কারা এবং কোথায় পাবে?
এই ক্যাম্পেইনে দুই ধাপে টিকাদান সম্পন্ন হবে:
১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সব ছাত্র-ছাত্রীকে এক ডোজ করে টিকা দেওয়া হবে। এই ধাপ চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত।
২. টিকাকেন্দ্র ও বাড়ি: ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে আছে, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই টিকা দেওয়া হবে।
৩. পথশিশু: শহর এলাকার পথশিশুদের টিকাদানের দায়িত্ব পালন করবে বিভিন্ন এনজিও।
জন্মসনদ ছাড়াই নিবন্ধন
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই টিকাদানের জন্য নিবন্ধন অব্যাহত আছে। যেসব শিশুর জন্মসনদ বা জন্মনিবন্ধন হয়নি, তারাও টিকা পাবে। সেক্ষেত্রে টিকার নিবন্ধনের জন্য তাদের নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা নিতে হবে।
