ঢাকার রাস্তায় আতঙ্ক ব্যাটারিচালিত রিকশা: ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা এমনিতেই বেহাল। এর মধ্যে অনুমোদন, লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই নগরীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই এখন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার রাজত্ব। এতে বাড়ছে যানজট, দুর্ঘটনা, জনভোগান্তি ও আতঙ্ক।
বিশেষ করে, দুর্বল ব্রেকিং সিস্টেম ও হালকা কাঠামোর রূপান্তরিত রিকশাগুলো নিয়মিত ভারসাম্য হারিয়ে উলটে যাওয়ার ঘটনা ঘটাচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও বিশৃঙ্খলা
- সংখ্যার আধিক্য: বিআরটিএ’র সূত্র মতে, দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কমপক্ষে ৬০ লাখ, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ১৫ লাখের বেশি।
- ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রভাব: ফিটনেসবিহীন এই বিপুল সংখ্যক যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
- দুর্ঘটনার হার: যাত্রী কল্যাণ সমিতির সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাটারিচালিত রিকশার হার ১২.১৭ শতাংশ।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর হাদিউজ্জামান মনে করেন, অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আপাতত এগুলো নিষিদ্ধ না করে নতুন করে এর উৎপাদন ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ করা যেতে পারে।
সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের ব্যর্থতা
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, এই অটোরিকশার পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট আছে, যা নিু আয়ের মানুষকে টার্গেট করে মাত্র ৬০-৭০ হাজার টাকায় গাড়ি বিক্রি করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে এসব যান বন্ধ করা যাচ্ছে না।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “প্রধান সড়কে যাতে অটোরিকশা না উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ না করলে সমস্যার সমাধান কঠিন।”
যাত্রী-চালকের দুর্ভোগ
- যাত্রীদের অভিযোগ: ধানমন্ডির বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, স্কুলের উদ্দেশে বাচ্চা নিয়ে বের হলে ভয় লাগে। এসব রিকশা উলটো দিক থেকে এসে ধাক্কা দেয়। চালকেরা বেপরোয়া, কোনো নিয়ম মানে না, হুট করে ব্রেক ধরে বা সিগন্যাল না দিয়েই মোড় নেয়।
- চালকদের দাবি: মিরপুর-১ নম্বর এলাকার রিকশাচালক নয়ন বলেন, “জানি এটা অবৈধ, কিন্তু পেটের দায়ে চালাতে হয়। দিনে ৬০০-৭০০ টাকা আয় হয়। পুলিশ ধরলে টাকা দিলেই ছেড়ে দেয়।“
- পথচারীর ভোগান্তি: রাস্তায় জায়গা না পেয়ে অটোরিকশাগুলো ফুটপাতে উঠে দাঁড়ায়, এতে পথচারীদের মূল সড়কে হাঁটতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা শহরে এক লাখ অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীচক্র ১০ লাখ বিক্রি করে দিতে পারে, এতে সড়ক দুর্ঘটনা দ্বিগুণ হারে বাড়বে।
