খালেদা জিয়ার মৃত্যু: ড. ইউনূস, মোদীসহ বিশ্বনেতাদের গভীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব পরিমণ্ডলে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো এই ‘আপসহীন নেত্রীর’ প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের শোক

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর শোকবার্তায় বলেন, “খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক ছিলেন। বহুদলীয় রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর সংগ্রাম ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।” তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।” তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী নেতাদের প্রতিক্রিয়া

  • ভারত: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে দিকনির্দেশনা দেবে।
  • পাকিস্তান: প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে খালেদা জিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অবদানের প্রশংসা করেন।
  • চীন ও শ্রীলঙ্কা: চীনের রাষ্ট্রদূত উ ওয়েন তাঁকে ইতিহাসের এক ‘দৃঢ় ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেন। শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্য নামাল রাজাপক্ষ বলেন, তাঁর মৃত্যু আঞ্চলিক গণতন্ত্রের জন্য এক বড় ক্ষতি।

আন্তর্জাতিক ও পশ্চিমা বিশ্বের বার্তা

  • যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাঁকে নারী ক্ষমতায়নের ‘অগ্রগামী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য: ইইউ, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন পৃথক বার্তায় বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে তাঁর প্রভাবের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

আন্তর্জাতিক মহলে বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালকে কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপি দেশজুড়ে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিশ্ব নেতাদের এই অগণিত শোকবার্তা বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সহানুভূতি ও সম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *