কোম্পানীগঞ্জে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; মহিষের ডগিতে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

বাংলাদেশ

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৪নং চরকাঁকড়া ইউনিয়নে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মহিষের ডগি এলাকায় বসুরহাট পৌরসভার ক্রয়কৃত একটি খোলা জায়গায় দীর্ঘ দিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এলাকাটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

জনবসতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে ময়লার ভাগাড়

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে থাকা এই জমিটির চারপাশে কোনো বাউন্ডারি না থাকায় অবাধে গৃহস্থালি ও পচনশীল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। আশপাশে অসংখ্য বসতবাড়ি, মসজিদ ও মাদ্রাসা থাকায় দিনরাত তীব্র দুর্গন্ধে নিশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে ময়লা অপসারণ করা হলেও কোনো ধরনের জীবাণুনাশক বা কীটনাশক ব্যবহার না করায় মশা-মাছির উপদ্রব ও রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু ও বৃদ্ধরা

ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এখানে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ময়লার পাশ দিয়ে একটি খাল প্রবাহিত হওয়ায় বৃষ্টি বা জোয়ারের সময় আবর্জনা পানির সঙ্গে মিশে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খালের পানি দূষিত হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, খোলা জায়গায় এভাবে বর্জ্য ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি।

এলাকাবাসীর দাবি

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা অবিলম্বে পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং নিয়মিত জীবাণুনাশক ছিটিয়ে এলাকাটিকে বসবাসের যোগ্য করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *