​‘আমার জানাজায় দলীয় কেউ আসবেন না’, মাদারগঞ্জ বিএনপি নেতার স্ট্যাটাসে তোলপাড়

আনিছুর রহমান আইয়ুব, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

“আমার মৃত্যু হলে দলীয় কোনো ব্যক্তি আমার জানাজায় আসবেন না”— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবু সাঈদ সুজনের এমন একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

​গত বুধবার (৮ জুলাই) সুজন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এই পোস্টটি করার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমান

​দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদ সুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ও ত্যাগী ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দফায় দফায় চরম হয়রানির শিকার হন। তাঁর এই আকস্মিক স্ট্যাটাসের পর অনেকেই মন্তব্যের ঘরে তাঁর খোঁজখবর নেন এবং এমন গভীর ক্ষোভ ও অভিমানের পেছনের প্রকৃত কারণ জানতে চান।

দলের জন্য ত্যাগ ও অবমূল্যায়নের অভিযোগ

​স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নিজের মানসিক কষ্ট ও অভিমানের কথা অকপটে স্বীকার করেন বিএনপি নেতা আবু সাঈদ সুজন। তিনি বলেন—

​”বিগত সরকারের সময়ে দলের কাজ করতে গিয়ে আমি ১১টি রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছি এবং তিন-তিনবার কারাবরণ করেছি। শুধু আমি নই, আমার সক্রিয় রাজনীতির কারণে আমার বৃদ্ধ বাবা ও ভাইকেও একাধিক মামলা-হামলার শিকার হতে হয়েছে এবং চরম খেসারত দিতে হয়েছে।”

​তিনি অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে আরও জানান, সম্প্রতি তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই কঠিন ও দুঃসময়ে দলের কোনো স্তরের শীর্ষ নেতা বা সহযোদ্ধা তাঁর ন্যূনতম খোঁজ নেননি, এমনকি হাসপাতালে দেখতেও যাননি। দীর্ঘদিন দলের জন্য এত ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকারের পর এমন চরম অবমূল্যায়ন ও উদাসীনতায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মূলত সেই গভীর কষ্ট ও একাকীত্ব থেকেই ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

আদর্শে অবিচল ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

​তবে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও দলের মূল আদর্শ থেকে তিনি বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, দলের প্রতি তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান।

​এদিকে এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের আত্মশুদ্ধি ও দলের জন্য জীবন দেওয়া ত্যাগী নেতাদের সঠিক মূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চুলচেরা আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *