আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির ৩ শিক্ষকসহ ১১ জন স্থায়ী বহিষ্কার

​দৈনিক জাহান ডেস্ক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় তিন শিক্ষক এবং আট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের বৈঠকে পর্যালোচনা শেষে এ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

​বহিষ্কৃত শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

​স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন:

  • ​মশিউর রহমান: গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক
  • ​আসাদুজ্জামান মণ্ডল (আসাদ): লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক
  • ​শরিফুল ইসলাম: রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর

​এছাড়া বহিষ্কৃত আট কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন—অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান (বাবু), তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান (তুফান), সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নুর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।

​ঘটনা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা

​২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই বেরোবির ১ নম্বর ফটকের সামনে পুলিশের গুলিতে বীরত্বপূর্ণভাবে শহীদ হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। উন্মুক্ত বুকে পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ভিডিও চিত্র দেশজুড়ে গণআন্দোলনের সূচনা করে, যা পরবর্তীতে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে রূপ নেয়।

​আবু সাঈদ হত্যা মামলায় চলতি বছরের ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিধি মেনে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার কার্যকর করা হলো।