ভারত থেকে অডিও বার্তায় নির্দেশনা: শেখ হাসিনার নির্দেশেই বাসে আগুন, বললেন রুহুল কবির রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে।ছবি

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা ১ হাজার ৪০০ শিশু–কিশোর, তরুণ হত্যা করে এখন ভারত বসে অডিও বার্তা পাঠিয়ে নাশকতা করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নির্দেশেই কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং এমনকি একজন পুড়ে মারাও গেছেন। রিজভী বলেন, কোনো একটা চোরা রাস্তা দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশে আসার স্বপ্নে বিভোর রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

নাশকতা ও ফ্যাসিবাদ

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে প্রচুর টাকা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা, পদ্মা সেতু, ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের টাকা তাদের হাতে আছে। সেই টাকা খরচ করে তারা নাশকতা করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এই ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। এ সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক সহাবস্থান ছিল না। গত ১৫ বছর বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলকে বিষয়টি ভুগিয়েছে। ফ্যাসিবাদের ছোবলে যখন নির্বাচন কমিশন, গণতন্ত্র ও তার প্রতিষ্ঠান, সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আক্রান্ত হয়, তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও আক্রান্ত হয়।

জিয়াউর রহমানের দর্শন

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের আত্মপরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন:

“বাহাত্তরের পর থেকেই আত্মপরিচয়ের সংকট তৈরি করছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি সবাইকে বাঙালি হয়ে যেতে বলেছিলেন… এর পরিবর্তে জিয়াউর রহমান আনলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। এর মধ্যে আমার পাহাড়ি, সমতল, নদী সব চলে আসে। আমাদের এই আত্মপরিচয়ের সংকট নিরসন করলেন জিয়াউর রহমান।”

রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীরা সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বন্ধ করে দিয়ে বাকশাল কায়েম করেছিল। পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে রাজনীতি ও মতপ্রকাশ করার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। “এটাই ৭ নভেম্বরের কৃতিত্ব ও মহত্ব, আপনি এটাকে কখনো অস্বীকার করতে পারবেন না।”

ছাত্রদলের অঙ্গীকার

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ছাত্রদল ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথে কোনো সময় আপস করেনি। সম্প্রতি চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠাতি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছাত্রদলের ন্যায়ের লড়াই প্রকাশ্যে চলমান থাকবে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী)। সভায় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও জিয়া পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *