নিয়োগে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

​মনজুরুল হক, শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. হাতেম আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসার জমি ইজারার অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ভুয়া ভাউচারে সরকারি অনুদান উত্তোলনের অভিযোগ এনে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক ও বেশ কয়েকজন অভিভাবক।

​অভিযোগের বিবরণ ও আর্থিক অনিয়ম

​অভিযোগপত্রে বলা হয়, মাদরাসার মালিকানাধীন প্রায় ১৬ একর ফসলি জমি ইজারা দেওয়া হলেও সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ। এ ছাড়া মাদরাসার ব্যাংক হিসাব থেকে এক লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ, শিক্ষকদের বেতনের একটি অংশ কেটে রেখে ব্যাংকে জমা না দেওয়া এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অনুদানের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অতীতে তাঁর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

​পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসাজনিত ছুটি অনুমোদনের বিনিময়ে অর্থ আদায়, নিয়োগে অনিয়ম, স্বাক্ষর জাল করে অভিভাবক সদস্য নিয়োগ এবং হাজিরা খাতায় জালিয়াতি করে বেতন উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা। শুধু তাই নয়, আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে বই না দেওয়া, নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত করা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

​বেতন আটকে রাখা ও অধ্যক্ষের রহস্যজনক আচরণ

​বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মাদরাসার বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক শিক্ষক-কর্মচারীদের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর স্থগিত রাখেন। পরবর্তীতে অন্যান্য শিক্ষকদের বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিলে স্বাক্ষর করলে শিক্ষক-কর্মচারীরা তাঁদের বেতন-ভাতা তুলতে সক্ষম হন।

​এদিকে আনীত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংবাদকর্মীরা মাদরাসায় গেলে অধ্যক্ষ মো. হাতেম আলীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেই মোবাইলে টাকা পাঠানোর কথা বলে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​প্রশাসনের বক্তব্য

​এ বিষয়ে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেক জানান, অধ্যক্ষ হাতেম আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ নিয়োগ এবং অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।