নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরার অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারী প্রায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩১)-কে সামনে রেখে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি বাংলাদেশ) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক (প্রান)-এর যৌথ আয়োজনে ‘বাস্তুচ্যুত, বঞ্চিত’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘কপ৩১ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জলবায়ু ন্যায়বিচার’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। খানি বাংলাদেশের সহসভাপতি রেজাউল করিম সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রানের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর উম্মে সালমা পপি।
গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য ও চিত্র
গবেষণায় দেখা যায়, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৪৭টি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে আনুমানিক ৭,৫৭৩টি জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি বসতির ৩৫৮টি পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে:
- ৭৪.৯% পরিবার তীব্র এবং ২৩.২% পরিবার মাঝারি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে; জরিপে শতভাগ নিরাপদ খাদ্য সংস্থান রয়েছে এমন একটি পরিবারও পাওয়া যায়নি।
- ৫২.২% পরিবারকে কখনো না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে এবং ৯০.৮% পরিবারের ঘরে কোনো খাদ্য মজুত নেই বা সর্বোচ্চ তিন দিনের খাবার রয়েছে।
- সন্তানদের খাওয়ার সুযোগ দিতে ৯৫.২% পরিবারে প্রাপ্তবয়স্করা কম খেয়ে দিন পার করছেন।
- ৯৬.৯% পরিবার ক্ষতিকর লবণাক্ত ও আয়রনযুক্ত পানির ওপর নির্ভরশীল এবং খাসজমিতে থাকা ৫৯% পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে।
- মাত্র ৭.৫% পরিবার সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে এবং ৯২.৭% পরিবার জানে না সহায়তা না পেলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরাম’-এর আহ্বায়ক ফাতেমা খাতুন, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, সাংবাদিক ও গবেষক গৌরাঙ্গ নন্দী, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক অমিত রঞ্জন দে, সাবেক পিডিজিএম মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ এবং ডিজাস্টার ফোরামের গওহার নঈম ওয়ারা বক্তব্য প্রদান করেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুপারিশ
সংবাদ সম্মেলন থেকে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক (কপ৩১) পর্যায়ে বেশ কিছু দাবি ও সুপারিশ পেশ করা হয়:
- জাতীয় পর্যায়ে: উচ্ছেদ বন্ধ করে স্থায়ী আবাসন, জরুরি খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ভোটার নিবন্ধন ক্যাম্প পরিচালনা, শিশু শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং একটি সমন্বিত ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়ন।
- কপ৩১ সম্মেলনে: আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ৩১-এ ক্ষয়ক্ষতি ও বিনষ্টি তহবিল থেকে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আলাদা তহবিল ও অভিযোজন অর্থায়নের দাবি তুলে ধরা।