মুক্তাগাছায় সার ব্যবসায়ীর গুদামে প্রশাসনের অভিযান

ময়মনসিংহ

এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে ৩ টন ১৫০ কেজি অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ১ নম্বর দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালি বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার সংরক্ষণের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একটি সার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে মোট ৩ টন ১৫০ কেজি সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ টিএসপি সার, ৪১ বস্তা অবৈধভাবে মজুদ করা ইউরিয়া এবং ৭ বস্তা এমওপি সার।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা উপজেলার ১ নম্বর দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালি বাজারে অবস্থিত মেসার্স রিহাদ মাহমুদ জয় এন্টারপ্রাইজে অবৈধভাবে সার মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার রাখার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)-এর তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র। উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানে থাকা বিভিন্ন ধরনের সার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ টিএসপি এবং অবৈধভাবে মজুদ করা ইউরিয়া ও এমওপি সার শনাক্ত করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়।

📷 ছবির জন্য স্থান
ছবি পরে সংযুক্ত করা হবে

জব্দ ৩ টন ১৫০ কেজি সার

অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ টিএসপি সার, ৪১ বস্তা ইউরিয়া এবং ৭ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা সারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ টন ১৫০ কেজি।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের ব্যবহারের জন্য বাজারজাত করা সারের ক্ষেত্রে মেয়াদ, বৈধতা এবং অনুমোদিতভাবে মজুদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ সার কৃষকদের কাছে বিক্রি বা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে তা কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে অবৈধ মজুদ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

অভিযানকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। তিনি মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং মুক্তাগাছার পশ্চিম চন্ডীমণ্ডপ এলাকার বাসিন্দা। তিনি ১ নম্বর দুল্লা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।

অভিযানে পাওয়া অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ জাকির হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টরা নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ সার সিলগালা

অভিযান শেষে জব্দ করা মেয়াদোত্তীর্ণ সারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রি বা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। জব্দ করা সারগুলো নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদ, কৃত্রিম সংকট তৈরি কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ সার বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

তাদের মতে, কৃষি মৌসুমে সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ কৃষকরা। তাই অনুমোদিত পদ্ধতির বাইরে সার মজুদ, বিক্রি কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ সার বাজারজাতের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানের ফলে ইছাখালি বাজারসহ আশপাশের এলাকায় সার ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুদ ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সার বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।