কলমাকান্দায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসা ১৭০০ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ; নারীসহ আটক ২, পলাতক ১

মো. ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মাদক চোরাচালানের অভিনব কৌশল নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আনা ১ হাজার ৭০০ পিস অবৈধ ও নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূল হোতা অপর এক ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

গত বুধবার (১ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কলমাকান্দা সদর এলাকায় এই ঝটিকা অভিযানটি চালানো হয়। আটককৃতরা হলেন—রাবিয়া আক্তার ও মো. শামীম।

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসছিল মাদকের চালান

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি নামী কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের একটি বড় চালান কলমাকান্দা এলাকায় আনা হয়েছে—বুধবার রাতে এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদ আসে পুলিশের কাছে। খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতনের অনুমতি সাপেক্ষে কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল নোমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অবস্থান নেন।

সেখানে কুরিয়ারের পার্সেলটি গ্রহণের সময় তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ৭০০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য রাবিয়া আক্তার ও মো. শামীমকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের বেষ্টনী ভেঙে আশরাফ উদ্দিন নামের অপর এক মাদক কারবারি দ্রুত পালিয়ে যান।

নেপথ্যে স্বামী-স্ত্রী চক্র; আসামিরা আদালতে

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রাবিয়া আক্তার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের তাড়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি আশরাফ উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার ছোট সালজান এলাকায় এবং আশরাফ উদ্দিন সম্পর্কে তাঁর আপন স্বামী। তারা দীর্ঘদিন ধরে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে এই অবৈধ মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।

এ ঘটনায় কলমাকান্দা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তিনজনকে আসামি করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি রাবিয়া আক্তার ও মো. শামীমকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে যথাযথ পুলিশ পাহারায় নেত্রকোনা জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পলাতক আসামি আশরাফ উদ্দিনকে গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান চলছে।

পুলিশের বক্তব্য ও সচেতন মহলের উদ্বেগ

অভিযানের সফলতা নিশ্চিত করে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) সজল সরকার বলেন—

“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই কঠোর ও বিশেষ অভিযান সর্বদা অব্যাহত থাকবে। এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

এদিকে, কলমাকান্দা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারের এই নতুন ও চতুর বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুধী সমাজ। সচেতন মহলের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত সড়ক ও সীমান্ত তল্লাশির নজরদারি এড়াতে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিসের মতো মাধ্যমগুলোকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি সমাজে এক নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই ভয়াবহ অপরাধ দমনে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর বুকিং ও ডেলিভারি প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ এবং উপজেলা জুড়ে নিয়মিত গোয়েন্দা অভিযান জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *