কলমাকান্দায় পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

মো. ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

ভারতের সীমান্তে কথিত পুশ-ইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অমানবিক সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে কলমাকান্দা উপজেলা সদরের থানা মোড়ে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জেলার ১১ দলীয় জোট রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে এই কর্মসূচির ডাক দেন।

বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগানে উত্তাল কলমাকান্দা

উপজেলা সদরের থানা মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আন্দোলনকারীদের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মিছিলটি পরে উপজেলা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা—“সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে”, “অবৈধ পুশ-ইন বন্ধ কর”, “মানবতা রক্ষা কর” সহ ভারতবিরোধী ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দেন।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক আইনের তাগিদ

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেত্রকোনা জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক সাদেক আহমেদ হারেছ। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল হাসেমের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমীর ও নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাছুম মোস্তফা বলেন:

“বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিয়মিত বিরতিতে নিরীহ বাঙালি নিধন এবং জোরপূর্বক পুশ-ইনের মতো কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিপন্থী। স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের সীমান্তে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অবিলম্বে এই বর্বরতার অবসান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য ভারত সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা দুই দেশেরই দায়িত্ব। কিন্তু একতরফাভাবে সীমান্ত হত্যা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা প্রতিবেশ সুলভ আচরণের পরিপন্থী। বক্তারা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও দৃঢ় ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ দলে দলে অংশ নেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *