সেনবাগে ৮ মামলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মাসুম গ্রেপ্তার
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় আটটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ও এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. মাসুম (২৮)কে গ্রেপ্তার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) দুপুরে থানার একটি বিশেষ অভিযানিক দল উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দি গ্রামে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি মাসুম উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
দীর্ঘদিনের নজরদারি ও সফল অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মাসুম দীর্ঘদিন ধরে সেনবাগের বিভিন্ন এলাকায় সুকৌশলে মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে থানায় আটটি মাদক মামলা দায়ের করা হলেও সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাসুমের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সেনবাগ থানার একটি বিশেষ চৌকস টিম সোনাকান্দি গ্রামে অভিযান চালায় এবং তাকে ঘেরাও করে আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে থাকা পূর্বের মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক জাহান-কে বলেন,
“গ্রেপ্তারকৃত মাসুম উপজেলার একজন তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে আটটি মাদক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিশেষ নজরদারিতে ছিল। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
ওসি আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন,
“মাদকের মরণছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে জেলা পুলিশের নির্দেশনায় আমাদের চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে সেনবাগ থানা পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”
আদালতে প্রেরণ
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মাসুমের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ মঙ্গলবার বিকেলের দিকে নোয়াখালীর বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে চিহ্নিত এই মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তারা পুলিশের এই সাহসী অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করে এলাকায় মাদক নির্মূলে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
