কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের ঈদ প্রীতি সমাবেশ ও পুনর্মিলনী, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য ঈদ প্রীতি সমাবেশ ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) বিকেল ৫টায় স্থানীয় নির্ঝর কনভেনশন হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সুধীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়
অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোয়াখালী জেলা আমীর can জনাব ইসহাক খন্দকার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, বরং আত্মত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানবকল্যাণের এক মহান শিক্ষা। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল একটি ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।”
সৎ, দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক গড়ার তাগিদ
বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও ইসলামী মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বাইতুলমাল সম্পাদক জনাব আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম অন্যতম দায়িত্ব। ঈদের শিক্ষা মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও সাংগঠনিক গতিশীলতা
বিশেষ মেহমান বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশারফ হোসেন তাঁর বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন:
“ঈদ পুনর্মিলনী শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।”
দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময়
সমাবেশের শেষাংশে বক্তারা দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাত শেষে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
