সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মমেক ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন
রাশেদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) ছাত্রদলের নবগঠিত আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃষ্ট বিতর্ক ও বিভ্রান্তি নিরসনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত এই সম্মেলনে কমিটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মমেক ছাত্রদল শাখার সদস্য সচিব মেহেদী হাসান।
বিতর্কের নেপথ্যে ও ছাত্রদলের ব্যাখ্যা
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঘোষিত ২৯টি ইউনিটের মধ্যে মমেক-এর ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিও রয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর কিছু সদস্যের নাম ২০২৩ সালের ছাত্রলীগ কমিটির সাথে মিলিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান পয়েন্ট তুলে ধরা হয়:
১. মমেক-এর সীমিত সংখ্যক ছাত্রাবাস সুবিধা থাকায় অধিকাংশ ছাত্রকেই তৎকালীন ছাত্রলীগ জোরপূর্বক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। অভিযুক্ত সদস্যরা ম-৫৯ ব্যাচের তৎকালীন মোস্ট জুনিয়র শিক্ষার্থী ছিলেন।
২. যাদের নিয়ে বিতর্ক তোলা হচ্ছে, তাঁদের কোনো অপকর্মের রেকর্ড নেই। বরং তাঁরা জুলাই বিপ্লবে অনলাইন ও অফলাইনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
৩. ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও ‘মব কালচার’ রুখে দেওয়ায় ছাত্রদল শিবিরের টার্গেটে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
সদস্য সচিব মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, “ছাত্রশিবির গত ১৫ বছরে তাদের কমিটি প্রকাশ করেনি। অথচ আমরা জানতে পেরেছি, ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতারাই এখন শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ছাত্রদল শুধুমাত্র সেই সব মেধাবী ও সাহসী শিক্ষার্থীদের কমিটিতে স্থান দিয়েছে, যাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে ছিলেন।” প্রমাণ হিসেবে জুলাই আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকার স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও মমেক ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম, মমেক ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তিতে ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ‘বিতর্কিত ন্যারেটিভ’ তৈরি করার অপচেষ্টা করছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
