নোবিপ্রবিতে কোটি টাকার প্রকল্পে ছাত্রদল নেতাদের হস্তক্ষেপ

মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) রাস্তা সংস্কার ও পরিবহন শেডের প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার প্রকল্পে নিয়োজিত নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুমকি, হেনস্তা এবং ম্যানেজারকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ জাহিদ হাসান, সেক্রেটারি হাসিবুল হাসান ও সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

প্রকৌশলীকে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. সৈয়দ আহমদ অভিযোগ করেন, আরসিসি রাস্তা ও পরিবহন শেড নির্মাণ প্রকল্পের বিল উত্থাপনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁকে চাপ দিচ্ছেন। তিনি জানান, গত ২৮ জানুয়ারি সাধারণ সম্পাদক হাসিব ফোন করে তাঁকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন এবং পরে সভাপতি জাহিদসহ একটি গ্রুপ কলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। এ সময় জাহিদ তাঁকে ১২ তারিখের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলে ‘ঠেং ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ঠিকাদারকে জিম্মি ও চাঁদা দাবি

প্রকল্প দুটির ম্যানেজার ও স্থানীয় ঠিকাদার মো. ইমদাদুল করিম রুমেল অভিযোগ করেন, গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে জিম্মি করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে ছাত্রদল নেতা আমিনুল এসে টাকা দিলে মীমাংসার প্রস্তাব দেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয়। রুমেলের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় এখন তার ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকার বিল আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল সভাপতি মোঃ জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান বলেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। জাহিদ জানান, তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে চেনেন না এবং বিল উত্থাপনের কাজ প্রশাসনের। সাধারণ সম্পাদক হাসিব জানান, তিনি প্রকৌশলীকে চেনেন না এবং গ্রুপ কলে হুমকির বিষয়টিও মিথ্যা। এদিকে সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি কোনো চাঁদা দাবি করেননি; ছাত্রলীগের দোসর হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ থাকায় রুমেলকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ

প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান জানান, ছাত্রলীগের সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে রুমেলকে তার অফিসে আনা হলে নিরাপত্তার স্বার্থে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ (মুরাদ) বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারের সাথে খারাপ আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। কাজ শেষ হলে ঠিকাদার আইন অনুযায়ী বিল পাবেন।” উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল জানান, বিল আটকে রাখার সুযোগ নেই। প্রকৌশলীকে হুমকির বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাননি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *