৩৬ জুলাইয়ের সঙ্গে মিল রেখে ডাকসু নির্বাচনে ৩৬ অঙ্গীকার শিবিরের

ডাকসু ভবনের সামনে ইশতেহার ঘোষণা করে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। গতকাল দুপুরে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭: ৫২
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ৩৬ দিনের সঙ্গে মিল রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। তারা আগামী ১২ মাসে এই ৩৬টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায়। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ছয়টি বিষয়কে ‘হ্যাঁ’ এবং ছয়টি বিষয়কে ‘না’ বলার অঙ্গীকার জানিয়েছে প্যানেলটি।
গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী মহিউদ্দিন খান এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন। এ সময় প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’
’ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ যে ছয়টি বিষয়কে ‘হ্যাঁ’ বলেছে, তা হলো: নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট সমাধান, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসাসুবিধা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন এবং পেশাজীবন গঠনে পর্যাপ্ত তথ্য ও সেবা।
অন্যদিকে, তারা যে ছয়টি বিষয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, সেগুলো হলো: কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি, নির্যাতন ও সহিংসতা, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, বৈষম্যমূলক নীতি ও আচরণ, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি, ‘লাঞ্চের পরে আসেন’ সংস্কৃতি (রেজিস্ট্রার ভবনে সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা) এবং ইসলামফোবিয়া ও সাইবার বুলিং।
ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারসমূহ
শিবিরের ঘোষিত ৩৬ দফা ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে:
- প্রতি বছর ডাকসু নির্বাচনের আয়োজন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদের দোসরমুক্ত করা।
- প্রথম বর্ষ থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত করা।
- হল ও ক্যান্টিনগুলোতে পুষ্টিবিদের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ এবং তিন মাস অন্তর খাবারের মান পরীক্ষা।
- নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন এবং ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মচারী কমানো ও প্রক্টোরিয়াল দলে পর্যাপ্ত নারী সদস্য নিয়োগ।
- ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান কার্যকর করা।
- শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু।
- শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতিকে উন্নত করে ‘মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম’ চালু এবং গবেষণাবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন।
- কেন্দ্রীয় ও হল লাইব্রেরি এবং বিভাগের সেমিনার কক্ষ সম্প্রসারণ।
- মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিংয়ের পরিসর বৃদ্ধি।
- মেডিকেল সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা ব্যয়ে ছাড়ের ব্যবস্থা করা।
- শারীরিকভাবে অক্ষম শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি’ চালু।
- যৌন হয়রানি ও সাইবার-বুলিং প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন।
- ছাত্রীদের জন্য মেন্সট্রুয়াল হাইজিন সামগ্রী সহজলভ্য করা।
- হলভিত্তিক সমস্যা সমাধানে ‘গ্রিভেন্স রেসপন্স টিম’ এবং ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেল’ গঠন।
সংবাদ সম্মেলনে জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, “আমরা প্রতি মাসে ৩টি করে ১২ মাসে ৩৬টি সংস্কার করব।”
