​রাকসু নির্বাচন: প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ভোট ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেলেন, পুনর্বিন্যাস করা হলো তফসিল

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ নজরুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে

প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮: ২৩

​শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে, ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট গ্রহণের তারিখ অপরিবর্তিত রেখে নির্বাচনের তফসিলও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

​আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে জরুরি সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

​অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি এবং নির্বাচনকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার এবং প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় এক দিন বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং হলও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলন ও সংঘর্ষ

​প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের দাবিতে গত রোববার সকাল থেকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁরা চেয়ার ভাঙচুর ও টেবিলে উল্টে দিয়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী মনোনয়নপত্র তুলতে গেলে তাদের ঘিরে ধরেন ছাত্রদলের কর্মীরা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ফটকের তালা ভেঙে ফেলেন। এরপর ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র তুলতে গেলে আরেক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা দুইটার দিকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। গতকাল সোমবারও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা প্রশাসন ভবনের সামনে তিন ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

ষষ্ঠবারের মতো তফসিল পুনর্বিন্যাস

​এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো রাকসু নির্বাচনের তফসিল পুনর্বিন্যাস করা হলো। পুনর্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ ও ৭ সেপ্টেম্বর।

​এছাড়াও, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে ১০ সেপ্টেম্বর। আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি হবে ১১ সেপ্টেম্বর, এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ১৩ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং একই দিন ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে।

​ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্যই এই আন্দোলন করেছি। নির্বাচন নিয়ে আমাদের আর কোনো দাবি নেই। আমরা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছি।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *