স্টাফ রিপোর্টার

দেশে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করে ৩ হাজার ৯৩৮টি ভবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬২২টি ভবনই রয়েছে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায়।
হাসপাতাল, মার্কেট ও কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তার বেহাল দশা
ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি খাতভিত্তিক স্থাপনার এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভবনই অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
ক্যাটাগরিভিত্তিক ঝুঁকির চিত্র:
- হাসপাতাল ও ক্লিনিক: ১,০৫৩টি পরিদর্শিত ভবনের মধ্যে ৪৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
- রেস্টুরেন্ট: ১,০৭১টি পরিদর্শিত রেস্টুরেন্টের মধ্যে ৩৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৪৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
- শপিংমল ও মার্কেট: ১,১৭১টি পরিদর্শিত মার্কেটের মধ্যে ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
- পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস): ১,৫৩৩টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৫৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৮৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
- কেমিক্যাল গোডাউন: ৯১টি রাসায়নিক গুদামের মধ্যে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
- সরকারি প্রতিষ্ঠান: ৬৫২টি সরকারি ভবনের মধ্যে ১৮৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়াও আবাসিক ভবন, সাধারণ কারখানা, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ফিলিং স্টেশনগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় স্থান পেয়েছে।
যেসব অনিয়মে ভবনগুলো হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) অনুযায়ী একটি সুনির্দিষ্ট চেকলিস্টের ভিত্তিতে ফায়ারিং টিম এসব স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে। পরিদর্শনের সময় মূলত যেসব ঘাটতি পাওয়া যায়:
১. রাজউক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত তলা বা অবকাঠামো নির্মাণ।
২. ফায়ার লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা।
৩. জরুরি বহির্গমন সিঁড়ির অনুপস্থিতি কিংবা সিঁড়িপথে মালামাল রেখে চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করা।
৪. পর্যাপ্ত পানির রিজার্ভার, ফায়ার পাম্প, স্প্রিংকলার ও ফায়ার ডোরের অভাব এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম অকেজো থাকা।
বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিসের আহ্বান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান জানান, নকশা না মেনে ভবন নির্মাণ এবং অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করাই মূল সমস্যা। শুধু পরিদর্শন করলেই হবে না, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, বিএনবিসি নীতিমালা অনুসরণ এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যান শতভাগ বাস্তবায়ন করা হলে বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা ও জীবন-সম্পদের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।