সুনামগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভাঙন ঝুঁকি: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে বেড়িবাঁধ ও পাশের স্কুল। সেখানে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে রতারগাঁও উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। আজ দুপুরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পিয়ারপুল এলাকায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ।
সুনামগঞ্জের ধোপাজান (চলতি) নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে আজ সোমবার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পিয়ারপুল এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। ‘এসো কাজ করি’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বক্তারা জানান, ইজারা না থাকলেও ড্রেজার দিয়ে নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে নদের বেড়িবাঁধটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বেড়িবাঁধ ভাঙলে স্কুল-কলেজ, জনবসতি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রেক্ষাপট
- ইজারা বন্ধ: সুনামগঞ্জের সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত এই নদটির ইজারা ২০১৮ সাল থেকে বন্ধ আছে।
- প্রকাশ্যে লুট: প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নদটিতে প্রকাশ্যে বালু লুট শুরু হয় এবং প্রায় কয়েক কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে।
- বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতি: গত মাসে ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২১ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চলমান কাজে এই বালু ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়।
আইনি পদক্ষেপ
বিআইডব্লিউটিএ-এর এই অনুমতি জানাজানির পর নদে আবারও বালু লুটের আশঙ্কা দেখা দেয়। এই নদ থেকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত ১৭ সেপ্টেম্বর চারটি মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১৭ জন দায়িত্বরত ব্যক্তিকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বালু উত্তোলনের এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননার শামিল।
