রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় জালিয়াতি ‘মির্জা-পলাশ’ জুটির কাছে সিবিএমসিবি জিম্মি

স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ (সিবিএমসিবি)।

জাল টাকা ছাপানোর মতোই গুরুতর অপরাধ পাবলিক পরীক্ষার রুটিন জালিয়াতি। অপরাধ ঢাকতে এখন হাজিরা খাতা গায়েব ও বাসায় বসে নথি তৈরির অপচেষ্টা! দুদক ও সংশ্লিষ্টরা কি ‘ভয়ে’ নাকি ‘পেয়ে’ নিশ্চুপ?

ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজে (সিবিএমসিবি) পাবলিক পরীক্ষার রুটিন জালিয়াতি এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. নাজমা পারভীন আনসারী এবং প্রতিষ্ঠানের সুপার নিউমারারি কনসালটেন্ট প্রফেসর ডা. মির্জা হামিদুল হকের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে এই অনিয়ম পরিচালনার তথ্য ও দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের এই ঘটনা চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন।

রুটিন জালিয়াতি: জাল টাকা ছাপানো, শিক্ষাগত সার্টিফিকেট মুদ্রন আইনের ভাষায় সমতুল্য অপরাধ

দেশের প্রচলিত আইনে জাল টাকা ছাপানো বা টাকার বিনিময়ে ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করা যেমন গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, পাবলিক পরীক্ষার রুটিন জালিয়াতি করাও একই গোত্রের অপরাধ। লিখিত পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তন এবং মৌখিক (ভাইবা) পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের মধ্যে আইনগত কোনো পার্থক্য নেই; পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী উভয়ই সমান অপরাধ।

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তন করার এখতিয়ার কোনো কলেজ কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তির নেই। অথচ অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্ত কনভেনর ডা. নাজমা পারভীন আনসারী কেবল নিজের বিদেশ ভ্রমণের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত তারিখ উপেক্ষা করে “Latest Schedule” নামে সম্পূর্ণ মনগড়া রুটিনে পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন। মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রকৃত সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে রুটিন পরিবর্তনের নজির না থাকলেও, এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থে তা করা হয়েছে।

সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কে?

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই স্বেচ্ছাচারিতার মূল শক্তি ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মির্জা হামিদুল হক। তাঁর সাথে ডা. আনসারীর ঘনিষ্ঠতা পেশাগত সম্পর্কের আড়ালে এমন এক ‘নির্লজ্জ বোঝাপড়া’য় পর্যবসিত হয়েছে, যা পুরো প্রতিষ্ঠানের চেইন অব কমান্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রশাসন সব জেনেও নীরব, কারণ ডা. মির্জার ক্ষমতার সামনে অধ্যক্ষসহ অন্যরা অসহায়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও অভিযুক্তদের পলায়নপর আচরণ

বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করা হলে তারা জানান,পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কনভেনর উপস্থিত থাকা বাধ্য। তিনি কোন ভাবেই অনুপস্থিত থাকতে পারেন না।বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। । অন্যদিকে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। তারা ফোন রিসিভ করেননি এবং সশরীরে দেখা করতেও রাজি হননি। উল্টো সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়ে আড়াল থেকে তাচ্ছিল্যপূর্ণ ও উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১০-১২ জানুয়ারি: পরীক্ষার দিনেই কনভেনর বিদেশে

বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে (১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি) অভিযুক্ত কনভেনর ডা. আনসারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি (GO) ছাড়াই বিদেশে অবস্থান করছেন। অথচ কাগজ-কলমে পরীক্ষা চলমান দেখানো হয়েছে। এটি পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে ‘অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ’ (Criminal Breach of Trust) এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রমাণ নষ্টের ষড়যন্ত্র: বাসায় বসে নথি তৈরির শঙ্কা

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অপরাধের দালিলিক প্রমাণ নষ্ট করার তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ডা. আনসারীর অনুপস্থিতি ঢাকতে পরীক্ষার হাজিরা খাতা (Attendance Register) গায়েব করে দেওয়া হতে পারে অথবা রাতের আঁধারে বাসায় বসে ব্যাকডেটে (Backdate) অফিশিয়াল নথিপত্রে স্বাক্ষর বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবীদের মতে, অফিসিয়াল রেকর্ড টেম্পারিং বা খাতা গায়েব করা দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় আরও গুরুতর অপরাধ।

দুদক ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা: ‘ভয়ে’ নাকি ‘পেয়ে’ নিশ্চুপ?

রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতি মাসে বেতন নেওয়া হয় দুর্নীতি দমন ও তদারকির জন্য। অথচ চোখের সামনে এমন ভয়াবহ জালিয়াতি ঘটার পরও ময়মনসিংহের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে নীরব। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি তদন্ত কর্মকর্তারা কি এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ‘ভয়ে’ নিশ্চুপ, নাকি কোনো অনৈতিক সুবিধা ‘পেয়ে’ নিশ্চুপ? সোশ্যাল মিডিয়া ও সচেতন মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও সরকারি নথিতে কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ‘দৈনিক জাহানের’ পরবর্তী পর্বে,,,,

About The Author

38 thoughts on “রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় জালিয়াতি ‘মির্জা-পলাশ’ জুটির কাছে সিবিএমসিবি জিম্মি

    1. এ ধরনের অপরাধী দুষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হোক

  1. অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা! এই ধরনের জালিয়াতি মেনে নেয়া যায় না। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি!

    1. এ ধরনের অপরাধী দুষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনী ব্যবস্হা নেওয়া হোক

  2. অত‍্যন্ত লজ্জা জনক ঘটনা। শাস্তি অপরিহার্য।

  3. লজ্জাজনক ঘটনা। কি করে এতো সাহস হয় !!! অপসারন আবশ‍্যক

  4. আসসালামু আলাইকুম।
    আশা করি আমার কমেন্ট টা দেখবেন আপনি।
    ন্যাক্কারজনক কাজ আপনারা করেছেন বলে আপনাদের কি মনে হচ্ছে না? এরকম করে যাদেরকে নিয়ে লিখেছেন, তারা সমাজের সম্মানিত এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। আমাদের প্রতিষ্ঠানও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠান যেন বিপদে পড়ে সেজন্য আপনি এরকম নিউজ ছাপলেন?

  5. আমার কথা শেষ হয়নি।
    আপনারা কোন ইস্যু কোন গুরুত্ব নিয়ে লিখেছেন আপনারা জানেন। প্রতিষ্ঠান এর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রতিষ্ঠানের সম্মান এবং আপনারা যাদেরকে নিয়ে এরকম লিখেছেন, তাদের সম্মানও।
    আমি কথা বলছি কারন কিছু বিষয় থেকে মনে করতে বাধ্য হচ্ছি যে আমাকে অসম্মানিত করতে এবার আপনারা বরং সহযোগিতা করছেন। আমার ডিপার্টমেন্টে আমাকে প্যাসিভলি শুনতে হচ্ছে টাকা দিয়ে এরকম কাজ আমি করিয়ে থাকতে পারি, এবং এগুলো ধারনা করে আমাকে ইশারা করে যখন বলা হচ্ছে যে এটা ডিপার্টমেন্ট থেকে আপনাদের কাছে জানানো হয়েছে নইলে এত তথ্য বাইরের কেও জানার কথা না। এসব নিয়ে মেন্টাল ট্রমাতে থাকতে বাধ্য করতেছেন আপনারা।

  6. শাহানাজ আপা সালাম নিবেন
    আপনার মূল্যবান কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ!
    সম্ভবত আপনি এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা! যাইহোক, রাষ্ট্রীয় আইন অবমাননা করাটা কি সম্মান জনক ব্যক্তির কাজ বলে মনে করেন আপনি? এই প্রতিষ্ঠান বৃহত্তর ময়মনসিংহের একটি সম্পদ! কেন কোনো প্রভাবশালী ব্যাক্তির জন্য কলঙ্কিত হবে? তা কি ভেবেছেন ?

  7. সমাজে এবং রাষ্ট্রে যখন অন্যায় বৈষম্য ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্তৃতবাদী শক্তি আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিতে চায় আমাদের প্রতিবাদের অধিকার হরণ করতে চায়, যায় বিরুদ্ধে বলা শক্তিশালী প্রতিবাদী উক্তিগুলো আমাদের সাহস যোগায়এবং দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হিসেবে কাজ করে। দৈনিক জাহান সেই শক্তির দর্পণ হিসেবে কাজ করুন। এই হটকার দের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখনই সময়। আইনের প্রতি সকলকে সচেতন হতে হবে, নিপাত যাক আইন বহির্ভূত সকল কর্মকান্ডের,সে যত শক্তিশালী হোক না কেন।।।

  8. দেখুন, আমরা সাংবাদিক! আমাদের কাছে বহু সূত্রে সংবাদ আসে। আমরা দুর্নীতি বা আইনলঙ্ঘন দেখলে তা বন্ধ করতে সেই বিষয় নিয়ে কাজ করি! তখন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্যায়ে জড়িত ব্যাক্তিগণ ঘরে বাইরে সবাইকে সন্দেহ করে! এগুলো নিয়ে বিচলিত হবেন না!

  9. আর, আপনি যদি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে আপনারা প্রতিবাদ লিপি প্রেরণ করেন, সেটাও তো আমরা ছাপিয়ে দিব!

  10. আমার কথা শেষ হয়নি।
    বিচলিত হয়ে আপনাকে জানাতে আসিনি।
    আপনি সাংবাদিকতার নিয়ম জানেন অথবা জানেন না, সেটা আপনার বিষয়। কিন্তু আপনি যখন একটা প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করবেন, কেন প্রথমেই আপনি সেখানে গেলেন যে ডিপার্টমেন্টে আমি থাকি? আপনি তো কলেজে এসে প্রিন্সিপাল অফিসে যাবার কথা। আপনিও কি কোনভাবে আমাকে বিপদে ফেলতে চাইছেন? সরাসরি বলবেন প্লিজ।

  11. জনাব/জনাবা শাহানাজ, আপনি কি জানেন, সাংবাদিকেরা কখন কার কাছে গিয়েছে? কারা কবে তাদেরকে জানিয়েছে? যাইহোক আপনার পরিচয় না জেনে এর বেশী কিছু বলতে পারছি না!

  12. শাহনাজ ম্যাডাম আপনি আমার সালাম নিবেন।আপনার সম্মানার্থে কিছু কথা বলতে চাই, যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে জেনেও তাহার অপরাধ লুকাইতে চেষ্টা করে তাহলে সে সেই অনুরূপ অপরাধের শামিল। দুর্নীতি সহায়তাকারীকে সাহায্য করলে সমান অপরাধে গণ্য করে সাজা দেওয়া হয়। আপা আপনি সম্মানিত মানুষ আপনি কেন এই অপরাধকে ঢাকার চেষ্টা করতেছেন। আপনি কি জানেন না উক্ত মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন অসঙ্গতি বিষয়গুলো।।

  13. একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে বলতে চাই- মেডিকেল শিক্ষার মত স্পর্শকাতর জায়গায় এ ধরনের জালিয়াতি কোনভাবেই কাম্য নয়। আইনের দৃষ্টিতে এটি স্পষ্টত ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জালিয়াতি ( forgery)।পরীক্ষার কনভেনর হয়ে পরীক্ষার দিনই অনুপস্থিত থাকা এবং নথিপত্র ম্যানিপুলেট করা বড় ধরনের ফৌজদারি অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা এখানে রহস্যজনক। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।

  14. কথা শেষ হয়নি আমার।
    আপনি আমার সম্মানহানি করছেন বলে আমি মনে করছি। কেননা, আমাকে সমস্ত তথ্যদাতা হিসাবে সন্দেহ করে কলেজে আমাকে নিয়ে এখানে সেখানে বিভিন্নরকম আলোচনা হচ্ছে, জঘন্য এক অপরাধী বানাচ্ছেন আপনারা আমাকে সবার চোখে। কেন?
    এমনকি, আমার ব্যক্তিগত জীবন কোথায় কি সমস্ত খোঁজ খবর নেয়াই শুধু নয়, এগুলো নিয়ে ইচ্ছামতো সমালোচনাও কলেজে এখন মুখ্য বিষয় হিসাবে তুলে ধরেছেন। পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, পেশাগত জীবন সমস্তকিছুতে আপনারা আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। কেন?

  15. একজন আইনের ছাত্র হিসেবে কিছু বলতে চাই,, আইনত এটি শুধু অনিয়ম নয় বরং বড় ধরনের দণ্ডবিধি ৪০৯ এবং ৪৬৪ ধারা রেকর্ড বা রুটিন জাল করা অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ যথাসাধ্য হলে অভিযুক্তদের চাকরি থাকার কথা নয় বরং জেল হওয়ার কথা তার মানে সব আগে আইনে সঠিক প্রয়োগ দাবি করছি।

  16. একজন আইনজীবী হিসেবে বলছি, সংবাদে উল্লেখিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব পাবলিক পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত সুবিধার্থে বিদেশ ভ্রমণ দন্ডবিধির ৪০৯ ধারা অনুযায়ী ক্রিমিনাল ব্রিজ অফ ট্রাস্ট বা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ (criminal breachof trust) তাছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা জিও (G.O)সময়ে কর্মস্থলের বাইরে থাকা বা বিদেশ ভ্রমণ পাবলিক সার্ভেন্ট হিসাবে মিস কনডাক্ট। দুদক(ACC) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত অতি বিলম্বের বিষয়টি তদন্তর আওতায় আনা।

  17. গত বছর ২০২৫ সালের সর্বশেষ কর্মচারী নিয়োগের সার্কুলার নিয়ে একটা বিশাল দুর্নীতি দেখেছি, নিয়োগের সার্কুলার পাবলিকলি প্রকাশ করা হয়েছে সার্কুলার জমা দেয়ার শেষের দিন, কয়েক ঘন্টা আগে তাদের ডেডলাইট অনুযায়ী,‌ অথচ সেটা পাবলিকলি প্রকাশ করার কথা ছিল কমপক্ষে আরো ৭ দিন আগে, আগে থেকেই না জেনে সেই সময় আবেদন করে সেই আবেদনপত্র জমা দেওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল একজন সাধারণ চাকরি প্রার্থীর পক্ষে আমি নিজেও এটার ভুক্তভোগী আমিও আবেদনপত্র জমা দিতে পারি নাই। পরবর্তীতে জানলাম এখানে নাকি অনেকে চাকরি হইছে, তারা আবেদন করলো কখন আর সেটা জমা দিল কখন তারাই ভালো বলতে পারবে, এখানে স্পষ্ট বুঝাই যাচ্ছে এসব আগে থেকেই সব সেট করা সার্কুলার শুধু নিয়ম মাত্র, এসব নিয়োগ দুর্নীতি দেখে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের চুপ করে দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না ।

  18. CBMCB আমাদের ময়মনসিংহের একটি গর্বের প্রতিষ্ঠান।এখানে তৈরি হয় হাজার হাজার ডাক্তার যারা আমাদের দেশ ও বিপদে মানুষের চিকিৎসা৷ সেবা দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন। এই রকম একটা প্রতিষ্ঠানে কতিপয় ব্যাক্তি বিশেষ এর সেচ্ছাচারিতা ও ব্যাক্তিগত সার্থের জন্য পরিক্ষা রুটিন পরিবর্তন অত্যন্ত দুংখ জনক।এই অভিযোগের সঠিক তদন্তের জোর দাবি জানাচ্ছি,,,

  19. শাহানাজ আপা,
    ★ আপনি কি কনভেনর?
    ★ নিউজ আপনি দিয়েছেন বলতে কি বুঝাতে চাইছেন?
    ★ প্রকৃত অপরাধের বিষয়টি নিয়ে কথা না বলে বিষয়টি ভিন্ন পথে টানার চেষ্টা বন্ধ করুন!

  20. আমি আপনাকে অনুরোধ করছি,
    আমার কাছে থেকে আপনি কোন তথ্য পেয়ে থাকলে, আপনি প্রতিষ্ঠান কে জানিয়ে আসুন, দয়া করে প্রতিষ্ঠান কে সহযোগিতা করুন।
    আমাকে গতকালকে একজন বলেছেন যেন সাবধানে চলি, যেন বানোয়াট কোন কিছু করে আমাকে ক্রিমিনাল বলা না হয়, সেটা যেন খেয়াল রাখি। দেখুন, সন্দেহ বা দোষারোপ যেটাই হোক সবাই চায় সে নিজে ঠিক আর অন্যজন ভুল এটার এস্টাবলিশমেন্ট। আপনি আশা করি আমার কথা বুঝতে পারছেন।

  21. আমি উক্ত মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বলছি আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং শাস্তি দাবী করি। যদি এর শাস্তি ব্যবস্থা করা না হয় তাহলে আমরা সাংবাদিক সম্মেলন করব প্রয়োজনে কোর্টে যাব আমি একা নয় আমার সাথে উক্ত মেডিকেল কলেজের অনেক ছাত্রছাত্রী একত্রে যাবে। শাহনাজ ম্যাডাম আপনি অপরাধের বিচার করুন সাফাই গাবেন না ম্যাম।

  22. আমার আরো কিছু বলবার আছে।
    আমি জানি, আমরা সেই দেশে থাকি, যেখানে হাদীকে মেরে ফেলে খুনীরা বিলাসী জীবন যাপন করে,
    খুনের বিচার চাইতে চাইতে শীতের রাতে আমাদের বাচ্চারা পথে পথে হাঁটে,
    আর, বাকী সবাই ব্যস্ত থাকে তাহসান-রোজার বিয়ে বা ডিভোর্স এর ইনভেস্টিগেশনে।

  23. এই ঘটনা আজকে নতুন নয়,শুধু বিদেশ ভ্রমনে নয়, ব্যক্তিগত আর্থিক চাহিদা পূরণ এর বিশেষ ফরমেট তৈরি করে অযোগ্য শিক্ষার্থীদের সিবিএমসিবি মেডিকেল কলেজে ভর্তি বাণিজ্য করে থাকেন। উনাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ফ্যাসিসটামল থেকেই, শুধু তাই নয় প্রশাসন এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের আমালাদের সাথে তাদের দুর্নীতির(অপরাধমূলক লেনদেন) সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যার দরুন পূর্বেও বহু সাংবাদিক ধারা তাদের অপকর্মের প্রমাণপত্র বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে আসার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের থাক, বরং যারা ব্যবস্থা নেবে তারাই তাদের সাথে মিলে মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বিরাট দুর্নীতির বেড়াজাল সৃষ্টি করে, প্রশ্ন ফাঁস এবং রুটিন পরিবর্তন এর মতন গুরুতর রাষ্ট্রীয় অপরাধ করেও তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের আমলা তান্ত্রিকতা বজায় রেখে আসছে। এদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে পরবর্তীতে যারা এইসব উচ্চ পর্যায়ে নীতি নির্ধারণের আসনে বসবে, তারাও যেন এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা ভেবে আর কোন দুর্নীতি অথবা স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম না দিতে পারে। উল্লেখিত অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের কঠিন শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

  24. সাধারণভাবে দেখা যায়, ডাক্তারের স্ত্রী বা স্বামী যখন তাদের কলিগদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ায়, তখন বাসায় অবহেলা বারে,লুকিয়ে ফোনে কথা বলার মাত্রা বেড়ে যায় হঠাৎ করে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে। বঞ্চিত স্বামী তখন রাগের বশবর্তী হয়ে স্ত্রীর ল্যাপটপ মোবাইল, ইমেইল ও ডাইরি থেকে দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মিডিয়া ও প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করে।

  25. বাংলাদেশে ডা. সাবরিনা ও আরিফ চৌধুরীর ঘটনা আমরা ভুলে যাইনি। স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব বা পারিবারিক কলহ থেকেই কিন্তু জেকেজি হেলথকেয়ারের সেই বিশাল জালিয়াতির অনেক অজানা তথ্য জাতির সামনে এসেছিল। প্রবাদেই আছে- ‘ঘরের খবর পরের চেয়ে ঘরের মানুষই ভালো জানে।

    বিষয় নিয়ে আমাদের রাজপথে নামতেই হবে?

  26. ইতিহাস বলে, ঘরের লোক যখন বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয় তখনই বাইরের ভদ্রলোকদের’ আসল মুখোশ খুলে দেয়। ব্রিটেনের মন্ত্রী ক্রিস হিউনের জেল হয়েছিল তাঁর স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই, কারণ মন্ত্রী তাঁর স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করেছিলেন। এই মেডিকেলের ঘটনাতেও যদি কোনো ভুক্তভোগী স্বামী অনৈতিক সম্পর্কের জেরে তথ্যগুলো ফাঁস করে থাকেন, তবে বুঝতে হবে ডাল মে কুচ কালা হ্যায়! আমরা অভিভাবকরা চাই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হলেও সত্যটা তো বের হলো। এখন প্রশাসনের উচিত এই দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলা

  27. # ইতিহাস বলে ঘরের লোক যখন বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয় তখনই বাইরের ভদ্রলোকদের আসল মুখোশ খুলে দেয়। ব্রিটেনের মন্ত্রী ক্রিস হিউনের জেল হয়েছিল তাঁর স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কারণ মন্ত্রী তাঁর স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করেছিলেন। এই মেডিকেলের ঘটনাতেও যদি কোনো ভুক্তভোগী স্বামী অনৈতিক সম্পর্কের জেরে তথ্যগুলো ফাঁস করে থাকেন তবে বুঝতে হবে ডাল মে কুচ কালা হ্যায় আমরা অভিভাবকরা চাই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে হলেও সত্যটা তো বের হলো। এখন প্রশাসনের উচিত এই দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলা #

  28. বেশ জোড়ালো লেখা। প্রমাণ সাপেক্ষে ঘটনার বিবরণীতে সত্যতার ভার বেশী বলেই ধারণা

  29. আমি কনভেনর নই।
    আপনারা সাংবাদিকরা ৩ জন সিবিএমসিতে প্যাথলজি হেড ম্যাডামকে না পেয়ে দায়িত্বে থাকা কারো খোঁজ নিচ্ছিলেন, আমি দায়িত্বে ছিলাম।
    আমার সাথে আরেকজন টিচার ছিলেন, কিছু কথা হয়েছিলো আপনাদের সাথে, তাই বলে এরকম নিউজ পাবলিশ করে প্রতিষ্ঠানের চোখে, হেড ম্যাডামের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করার রাইট কি আপনারা রাখেন?

  30. দেখুন, আপনার কথার ভিত্তিতে তো কিছুই লেখা হয়নি! এখানে যতটুকু লেখা হয়েছে তার চাইতেও অনেক বেশি তথ্য আমাদের আগেই দিয়েছে! যা আপনারাও হয়তো জানেন না! আপনারা তো কোনো তথ্যই দেননি! মূলত আমারা গিয়েছিলাম বোর্ডের নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা হচ্ছে কি না তা দেখতে! কিন্তু যিনি প্রাতিষ্ঠানিক + রাস্ট্রীয় নিয়ম ভেঙে বিদেশে বেড়াতে গেলেন তাকে কিছুই না বলে কর্তৃপক্ষ আপনাকে দোষ দিচ্ছে? আপনারা মেনে নিচ্ছেন? সম্ভবত আপনারা সবাই ৫ আগস্টের আগেই রয়ে গেছেন!

  31. “আইন দিয়া কিছু হইবে না, ক্ষমতাই সব—এই দম্ভ যাহারা দেখায়, তাহারা বোকার নরকে বাস করিতেছে! ছাত্রসমাজ জাগিয়াছে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন লইয়া ছিনিমিনি খেলিবে, ব্যক্তিগত বিলাসিতায় রাষ্ট্রদ্রোহী জালিয়াতি করিবে—আর আমরা আঙুল চুষিব? অসম্ভব!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *