যে ‘ঝাই’ জীবিকার বাধা ছিল, সেটাই এখন রফিকুলদের আয়ের উৎস

শেরপুরের নকলা উপজেলায় ভেসে থাকা জলজ উদ্ভিদ ‘ঝাই’ এখন আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। সেই ঝাই বিল থেকে সংগ্রহ করে ডাঙায় রাখছেন এখন। সম্প্রতি উপজেলার পেকুয়া বিলের পাড়েছবি।
আবদুল মান্নান, নালিতাবাড়ী, শেরপুর।
শেরপুরের নকলা উপজেলার পেকুয়া বিলে একসময় মাছ ধরায় বাধা সৃষ্টি করত কচুরিপানা ও শ্যাওলা জাতীয় ভাসমান উদ্ভিদ ‘ঝাই’। এখন সেই ‘ঝাই’ (একধরনের ভাসমান সবুজ উদ্ভিদ) নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। নকলা উপজেলার পেকুয়া বিলঘেঁষা গণপদ্দি, জালালপুর ও গজারিয়া—এই তিন গ্রামের শতাধিক পরিবার এখন ঝাই সংগ্রহ ও বিক্রিতে যুক্ত।
গণপদ্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম একসময় মাছ ধরে সংসার চালাতেন, কিন্তু ঝাইয়ের কারণে তাঁর মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সেই ঝাই বিক্রি করেই তিনি সংসার চালাচ্ছেন।
কর্মসংস্থান ও আয়
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই তিনটি গ্রামের শতাধিক পরিবার প্রতিদিন নৌকা নিয়ে বিল থেকে ঝাই সংগ্রহ করে বিক্রি করে।
- বিক্রি: এক ভ্যান ঝাইয়ের ওজন ৮ থেকে ১০ মণ হয়, যা আকারভেদে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।
- আয়: আবদুর রফ বলেন, আগে মাছ ধরা বন্ধ হলেও এখন ঝাই বিক্রি করে দিনে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়।
- সামষ্টিক আয়: গজারিয়া গ্রামের আশরাফ আলী বলেন, তিন–চারজন মিলে দিনে চার ভ্যান ঝাই তোলেন, যার থেকে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা পাওয়া যায়।
মাছচাষিদের সাশ্রয়ী খাবার
ঝাই (যা অনেক এলাকায় ‘তরুলতা’ বা ‘জলঢাকনা’ নামেও পরিচিত) রুই, কাতলা, মৃগেল, শিং, মাগুর ও তেলাপিয়া মাছের প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
মাছচাষি মনির হোসেন বলেন, “দুই ভ্যান ঝাই দিলে ৬টি পুকুরের দুই সপ্তাহ মাছের খাবার চলে যায়। তাই এখন ফিড কম লাগে।” এতে মাছচাষিদের খরচ অনেকটা কমে গেছে।
নকলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান বলেছেন, এটি একটি ইতিবাচক দিক। এতে একদিকে মাছচাষিদের খরচ কমছে, অন্যদিকে পেকুয়া বিল–সংলগ্ন জেলে ও এলাকাবাসীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
