সচেতন নাগরিক সমাজের সহযোগিতা ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না : উম্মে হাবিবা

সমাধান অন্বেষন বৈঠক। ছবি:অনিন্দ বাংলা।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পাদপীঠ দু’শ বছরের প্রাচীন ময়মনসিংহ নগরীতে মানুষ ও যানবাহনের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে শত শত বহুতল ভবন নির্মিত হলেও শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা এক ইঞ্চিও বাড়েনি। ফলে নিত্য যানজটের কবলে পড়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞ ও নগর বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সুপ্রশস্ত সড়ক নির্মাণসহ টেকসই নগর উন্নয়নে সর্বাধুনিক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন। অন্যথায় প্রাচীন এই শহরটি অচিরেই বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে “ময়মনসিংহ নগরীর যানজট নিরসনে সমাধান অন্বেষণ বৈঠক” অনুষ্ঠিত হয়।
সমস্যার কারণ ও সমাধান অন্বেষণ
বৈঠকে নগরীর যানজটের নানাবিধ কারণ, চলমান সংকট এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী ও নাগরিকরা মুক্ত আলোচনা করেন।
- যানজটের মূল কারণ: জাগ্রত ময়মনসিংহের আহ্বায়ক, সাংবাদিক ও গবেষক মজিবুর রহমান মিন্টু তাঁর অডিও-ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশনে নগরীর অপরিকল্পিত নগরায়ন, সংকীর্ণ সড়কব্যবস্থা, রিকশা ও অটোরিকশার আধিক্য, এবং কেওয়াটখালি আর্চ স্টিল ব্রিজের সংযোগ সড়ক বাঁকানোর কারণে সৃষ্ট যানজটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহরের সড়ক পরিকল্পনায় জনসংখ্যা ও যানবাহনের বৃদ্ধি বিবেচনায় রাখা হয়নি।
- অন্যান্য জটিলতা: বক্তারা উল্লেখ করেন, হকারদের দখল, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনের মন্তব্য
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে হাবিবা মিরা। তিনি নাগরিক ভাবনার সাথে ঐকমত্য পোষণ করে বলেন, “নগরের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নয়, নাগরিক মনোভাবের পরিবর্তনের ওপরও নির্ভরশীল। সচেতন নাগরিক সমাজের সহযোগিতা ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে. বি. এম. সাদ্দাম হোসেন এবং বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক মোঃ আবু নাঈম। নগর গবেষক ইয়াজদানী কোরায়শী কাজল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বক্তাদের প্রধান দাবি
নগরের নানা সমস্যা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহকে টেকসই ও আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো জরুরি:
- শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রশস্ত করা।
- যানজট নিরসনে বিকল্প সড়ক ও রুট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
- গণপরিবহন ও পথচারী-বান্ধব ব্যবস্থা চালু করা।
- হকার পুনর্বাসন, পরিবেশসম্মত সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং কেওয়াটখালি সেতুর সংযোগ সড়ক পুনঃনকশা করা।
- দীর্ঘমেয়াদি টেকসই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন এবং নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি করে কড়া ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা।
বক্তারা মনে করেন, নাগরিক ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ ছাড়া যানজট নিরসন সম্ভব নয়। এই বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), নাগরিক আন্দোলন ময়মনসিংহ, জন উদ্যোগ ময়মনসিংহ সহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন।
