যানজট কমাতে সড়ক ও সেতুতে চালু হচ্ছে ই-টোল ব্যবস্থা
জাহিদ হোসাইন খান।

পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজাছবি: প্রথম আলো।
ঈদ কিংবা পূজার মতো বড় উৎসবের সময় বিভিন্ন ব্যস্ত সড়ক ও সেতুতে টোল দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সৃষ্ট যানজট ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তির অন্যতম প্রধান কারণ। দেশের টোল ব্যবস্থাপনা এখনো নগদ টাকানির্ভর হওয়ায় প্রচুর সময় নষ্ট হয় এবং অযথা হয়রানির সৃষ্টি হয়।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করা তরুণ আরিয়ান আরিফ গত সপ্তাহে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের টোল ফি দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “টোল ফি দেওয়ার সময় আমার ৯০ মিনিটের মতো সময় লেগেছে। এত বড় লাইন অথচ টাকা নেওয়া হচ্ছে হাতে হাতে।” তিনি মনে করেন, টোল ব্যবস্থা আধুনিক না করার কারণে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ১ অক্টোবর সিলেট থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে তাঁর ১৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে, যার বড় কারণ কয়েকটি সেতুতে টোল দেওয়ার বিশাল লাইন।
চলছে পরীক্ষামূলক ইটিসি
সাধারণ মানুষের এই সমস্যাগুলো বিবেচনা করে সরকার এখন ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) বা ই-টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে পদ্মা সেতুতে।
- কার্যক্রম: ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো দেশের একটি প্রধান মহাসড়কে নগদবিহীন ও নন-স্টপ টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু হয়।
- সুবিধা: নতুন এ ব্যবস্থায় আর টোল প্লাজায় গাড়ি থামাতে হবে না। নিবন্ধিত গাড়িগুলো নির্দিষ্ট ইটিসি লেন ব্যবহার করে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পার হতে পারবে। ব্যবহারকারীর প্রি-পেইড অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত টোল কেটে নেওয়া হবে।
নিবন্ধন ও বিস্তৃতির পরিকল্পনা
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ইলেকট্রনিক টোল সেবা ব্যবহার করতে হলে প্রথমে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ট্যাপ অ্যাপের ডি-টোল অপশনে গাড়ি নিবন্ধন ও রিচার্জ করতে হবে। এরপর পদ্মা সেতুর আরএফআইডি বুথে একবার যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করলে ভবিষ্যতে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি শনাক্ত করতে পারবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ই-টোল সেবা সারা দেশে চালু করার জন্য কাজ চলছে। এখনকার নগদনির্ভর ব্যবস্থায় সময় বেশি লাগে।
“আমরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছি। পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় সেতুতে ৬০-৮০ কিলোমিটার গতিতে নির্বিঘ্নে অতিক্রম করার জন্য আমরা কাজ করছি।”
আগে আরএফআইডি যন্ত্রের প্রতি গাড়িচালকেরা অনাগ্রহী হওয়ায় সেই ব্যবস্থায় সাফল্য আসেনি। এখন নাগরিকদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে ই-টোল ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাঁদের ওয়ালেট নেই, তাঁরা কিউআর টাচ অ্যান্ড পাস সেবা ব্যবহার করে টোল দিতে পারবেন।
সরকার এখন ‘ইউনিফায়েড টিকেটিং সেবা’ চালুর কাজ করছে, যেখানে বাস, ট্রেন, ট্রাক, বিমান থেকে শুরু করে সব টিকিট ও টোল সেবা একটি প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে নাগরিকদের টিকিট ও টোলসংক্রান্ত অনেক হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
