মাকছুদা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের বেহাল দশা: ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাকছুদা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলায় পড়ে আছে। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি নিবেদিত এই স্থাপনাটির জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অবহেলার চিত্র
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহীদ মিনারটির পলেস্তারা ও রং খসে পড়েছে। নকশায় রয়েছে অসামঞ্জস্যতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কোনো চিহ্ন নেই। বছরের পর বছর সংস্কার না করায় এটি এখন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনারের এই বেহাল দশা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার সঙ্গে চরমভাবে সাংঘর্ষিক।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, “১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে আমরা এখানে ফুল দিতে এসে লজ্জা পাই। শহীদ মিনারের এই অবস্থা দেখে মনে হয় ভাষা শহীদদের প্রতি কারও কোনো সম্মান নেই।”
একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় ছোট-বড় উন্নয়নমূলক কাজ হলেও শহীদ মিনারটির সংস্কার বা সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলছে।
সচেতন মহলের উদ্বেগ
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান স্থান হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে যদি জাতীয় চেতনার প্রতীক এই শহীদ মিনার অবহেলার শিকার হয়, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে এমন চিত্র অনভিপ্রেত।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে শহীদ মিনারটি সংস্কার করে ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
