ত্রিশালে যুবদল নেতার ভাইকে কুপিয়ে জখম ও লুটপাট: কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ
ফারুক আহমেদ , ত্রিশাল প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়ায় যুবদল নেতার ছোট ভাই রুবেল পালোয়ানকে (২৫) কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত ৩০শে এপ্রিল রাতে বালিপাড়া স্টেশন রোড এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ইজারা মহালের ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে যুবদলের কার্যালয়সহ একটি ইজারা অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনন্দমোহন কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রুবেল পালোয়ান তার বড় ভাই হারুন অর বাদল (বালিপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও যুবদল নেতা) এর ইজারা মহালের নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিহারী পট্টি এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ সোহাগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মঈনুল হাসান তারেক ও তানজিলসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁর পথরোধ করে।
সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রুবেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মোস্তাক আহমেদ সোহাগ দা দিয়ে রুবেলের মাথায় কোপ দিলে তাঁর কপালের ডান পাশে গুরুত্বর জখম হয়। এছাড়া লোহার রড ও পাইপের আঘাতে তাঁর ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। রুবেল অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাঁর পকেট থেকে ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
কার্যালয় ও ইজারা অফিসে ভাঙচুর
আহত রুবেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর, রাত সোয়া ৮টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় বালিপাড়া স্টেশনে অবস্থিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা চালায়। সেখানে তারা জাতীয় নেতাদের ব্যানার ও ছবি ছিঁড়ে ফেলে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এরপর বালিপাড়া বাজারের ইজারা অফিসে হামলা চালিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
বর্তমান অবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ
আহত রুবেল পালোয়ানকে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্তমানে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় রুবেলের বড় ভাই মামুনুর রশিদ মামুন বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে বিবাদী করে ত্রিশাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ জানান, এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
